ব্রেকিং:
দাউদকান্দি শিশু ধর্ষণের অভিযোগ অপ্রতিরোধ্য বসুন্ধরা কুমিল্লায় নির্বিচারে শিশুশ্রম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অচেতন করে ব্যাংক লুট বাঞ্ছারামপুর থানা থেকে লোক ছাড়াতে নেতা নিলেন দেড় লাখ টাকা! পদুয়ার বাজারে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান বিডিআর বিদ্রোহ:অভিযুক্তদের পক্ষে কেন আইনি লড়াই করে বিএনপি? বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের ফসল বিডিআর বিদ্রোহ একদিনে আরো পাঁচজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪১০ জাতীয় বিশ্ববিদ্যায়ের স্থগিত পরীক্ষাসমূহের নতুন সূচি ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের বৈধ করার আহ্বান মোমেনের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪০০ কোটি ছাড়াল মেট্রো রেল প্রকল্পে গড় অগ্রগতি ৫৬.৯৪% দেশে হচ্ছে আরও সাত নভোথিয়েটার আসছে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটার হওয়ার সুযোগ শঙ্কা কেটে পুনরুদ্ধারের পথে অর্থনীতি করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপণ করেছে শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর দুর্নীতিবিরোধী ভাষণ দূরদর্শিতার প্রমাণ
  • শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭

  • || ১৩ রজব ১৪৪২

আজকের দিনেই হারিয়েছিলেন জহির রায়হান!

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২১  

চলচ্চিত্রকার জিনিয়াস জহির রায়হান (১৯২৫-১৯৭২) সম্পর্কে মোটামুটি আমরা সবাই জানি। তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম পরিচালক হিসেবে রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম' নির্মান, 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রের জন্য সে সময়কারে সর্বোচ্চ পদক 'নিগার পুরস্কার' এর ৭টি বিভাগে জয়ী হওয়া; আনোয়ারা, বেহুলা, বাহানা, ধীরে বহে মেঘনা, কখনো নামেনি, Let their be light, জীবন থেকে নেয়া'সহ মাত্র ১১বছরের ক্যারিয়ারে বাংলা, উর্দু, ইংরেজি ভাষায় ২২টি ফিকশন মুভি এবং ৩টি তথ্যচিত্র নির্মাতা জহির রায়হান, স্বাধীনতার মাত্র ৪৫দিন পর, আজকের এই দিনে বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার'কে খুঁজতে মিরপুর বিহারি পল্লীতে গিয়ে আর ফিরে আসেন নি। তাঁকে এখন মৃত হিসেবেই ধরা হয়। এসব সর্বজনজ্ঞাত বিষয়ে নতুন করে কিছু বলব না। পরিচালক হিসেবে জহির রায়হানের অসাধারণ দূরদৃষ্টির দুটি উদাহরণ বলছি, যা একইসাথে আমাকে হতচকিত এবং আনন্দিত করেছে।

একটি দেশ, একটি সংসার, একটি চাবির গোছা, একটি আন্দোলন, একটি চলচ্চিত্র. . . . . . . . .

এই অসাধারণ পোস্টার প্রমোশনে ১৯৭০ সালে মুক্তি পায় জহির রায়হানের সর্বাধিক জনপ্রিয় শ্রেষ্ঠ কীর্তি 'জীবন থেকে নেয়া'। লক্ষ্য করুন, এই মুভিটির স্যূটিং হয়েছে ৬৯ এর গণ অভ্যূত্থানের সময়। তখনো স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা ওঠেনি, চলছে স্বাধিকার আন্দোলন। পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার ব্যাপারটি আরো অনেক পরের কথা।

অথচ 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রে জহির রায়হান দুটি রবীন্দ্র সংগীত ব্যবহার করলেন দেশপ্রেমের প্রতীক রূপে। মুভির মধ্যভাগে 'আমার সোনার বাংলা' এবং শেষার্ধে 'ও আমার দেশের মাটি'। খেয়াল করে দেখেছি, এই দুটি গানের চিত্রায়নে কোথাও কোন অভিনয় শিল্পীকে বসে থাকতে দেখা যায়নি। প্রত্যেকেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রকৃতি বন্দনা ও দেশপ্রেমে আপ্লুত ছিলেন। জহির রায়হান কি দুবছর আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হচ্ছে? এবং এদুটি গানের যেকোন একটি হতে যাচ্ছে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত?

এবার ২য় উদাহরণটি দেই। জীবন থেকে নেয়া'র এক অংশে দেখা যায় 'আনোয়ার হোসেন' সহশিল্পী 'খান আতাউর রহমান'কে এক প্রশ্নের জবাবে বলছেন, "ঘরে ঘরে আন্দোলন শুরু করতে হবে"; "এখনি সময় যার যা কিছু আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকার জন্য";
.
লক্ষ্য করুন, চলচ্চিত্রের গল্পে উপরোক্ত দুটি সংলাপের পরিণতি কৌতুকাবহের সৃষ্টি করলেও ৭১এর ৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে এ দুটি বাক্য কি অসাধারণভাবে ফিরে এল---
"প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক"।
.
চমকপ্রদ!!! কি অপূর্ব মেধা আর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন আমাদের জিনিয়াস জহির রায়হান!!
.
সফলভাবে দেশটাকে স্বাধীন করেও নিজেকে বাঁচাতে পারলেন না।  হে জিনিয়াস, তোমার শরীরটাকে আমরা আছো খুঁজে পাই নি। কিন্তু এই বাংলার মাটি নিশ্চয় পরম আদরে তোমাকে বুকে ঠাই দিয়েছে। শত্রুর নিষ্ঠুর আঘাতে ক্ষত শরীরে এই মাটি মমতার পরশ বুলিয়ে দিয়েছে তো?

কুমিল্লার ধ্বনি