ব্রেকিং:
দাউদকান্দি শিশু ধর্ষণের অভিযোগ অপ্রতিরোধ্য বসুন্ধরা কুমিল্লায় নির্বিচারে শিশুশ্রম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অচেতন করে ব্যাংক লুট বাঞ্ছারামপুর থানা থেকে লোক ছাড়াতে নেতা নিলেন দেড় লাখ টাকা! পদুয়ার বাজারে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান বিডিআর বিদ্রোহ:অভিযুক্তদের পক্ষে কেন আইনি লড়াই করে বিএনপি? বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের ফসল বিডিআর বিদ্রোহ একদিনে আরো পাঁচজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪১০ জাতীয় বিশ্ববিদ্যায়ের স্থগিত পরীক্ষাসমূহের নতুন সূচি ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের বৈধ করার আহ্বান মোমেনের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪০০ কোটি ছাড়াল মেট্রো রেল প্রকল্পে গড় অগ্রগতি ৫৬.৯৪% দেশে হচ্ছে আরও সাত নভোথিয়েটার আসছে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটার হওয়ার সুযোগ শঙ্কা কেটে পুনরুদ্ধারের পথে অর্থনীতি করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপণ করেছে শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর দুর্নীতিবিরোধী ভাষণ দূরদর্শিতার প্রমাণ
  • শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭

  • || ১৩ রজব ১৪৪২

আত্মবিশ্বাসে মাছের প্রজেক্টে বরই চাষ, হলেন স্বাবলম্বী

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

কয়েক বছর মাছ চাষ করে আশানুরূপ লাভের মুখ না দেখায় হতাশায় পড়েন কৃষক ইউনুছ ভূইয়া। কিন্তু সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখা কৃষক ইউনুছ ভূইয়া হেরে যাওয়ার পাত্র নন। হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তর করে শুরু করলেন বরইসহ নানা জাতের ফল চাষ।

৬০ বিঘা জমিতে ফল চাষ করে আজ তিনি স্বাবলম্বী। এই সফল চাষি হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের কৃষক ইউনুছ ভূইয়া। 

জেলার নানা প্রান্ত থেকে উদ্যোমী তরুণরা প্রতিদিনই আসেন তার এই বাগান দেখতে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতের বরই চাষ দেখে উৎসাহিত তরুণরা এখন স্বপ্ন দেখেন বিদেশ না গিয়ে ইউনুছ মিয়ার মতো তারাও হবেন উদ্যোক্তা। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কৃষক ইউনুছ ভূইয়া ১৮শ’ শতক বিস্তৃর্ণ  মাঠে বরই, লেবু, মাল্টা, ফুলকপি, মরিচ, টমেটোর বাম্পার ফলন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এই প্রজেক্টের ভেতর ২ হাজার ৫শ’ বল সুন্দরী জাতের বরই, ৭ হাজার লেবু , সাথী ফসল ও মাল্টাগাছ লাগিয়েছেন। এখন তার বাগানে বরইয়ের ভালো ফলন হয়েছে। গাছের পাতায় পাতায় বরই দুলছে। বল সুন্দরী জাতের বরই দেখতে খুব সুন্দর। খেতে মিষ্টি, অধিক রসালো ও পুষ্টিগুনে ভরপুর।

ইউনুছ ভূইয়া জানান, আমি বিদেশে ছিলাম। দেশে এসে করোনার কারণে আর বিদেশ যেতে পারিনি। বেকার হয়ে পড়ছিলাম। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেই যে আর অন্যের অধীনে চাকরি করব না। এবার উদ্যোক্তা হয়ে নিজেই কিছু একটা করবো। তাই নিজের পরিত্যক্ত ১০ বিঘা জমির সঙ্গে আরো ৫০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে একটি মাছের প্রজেক্ট তৈরি করি। মাছের ব্যবসা ভালো না হওয়ায় প্রজেক্টের ভেতর বরই ও লেবুর বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। মাছের প্রজেক্টের মত নিচু জায়গায় ফলবাগান করছি দেখে এলাকার মানুষ আমাকে পাগল বলেছিল, নানা রকম সমালোচনাও করেছে। তবে সমালোচকের কথায় কান না দিয়ে নাটোর থেকে আড়াই মাস বয়সী বরই ও লেবুর চারা এনে রোপণ করি। চারা রোপণের পর মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন স্যার সার্বক্ষণিক বাগানটির খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং গাছের পরিচর্যায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

 

মাছের প্রজেক্টে বরই চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক ইউনুছ ভূইয়া (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

মাছের প্রজেক্টে বরই চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক ইউনুছ ভূইয়া (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

তিনি আরো জানান, চারা রোপণের তিন মাস পর বাগানের প্রতিটি গাছে বরই এসেছে। বড়ই বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। প্রতিদিন প্রচুর মানুষ বাগানে এসে বরই নিয়ে যায়। একটি গাছে ২৫-৩০ কেজি বরই হয়। ১শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এই বাগানে প্রতিদিন ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া বাগানের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক দুইজন লোক নিয়োজিত আছেন। আমার বিশ্বাস ছিল সফল হব এবং হয়েছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য বাগানের চারদিকে খাল খনন করা আছে। বাগানের পানি খালে গড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে মেশিনের সাহায্যে পানি বের করা হয়। আবার পানি দেয়া লাগলে খাল থেকে মেশিন দিয়ে পানি দিয়ে দেই। 

বাগানটি করতে গিয়ে আমি মাত্র ৩ লাখ টাকার কৃষি লোন পেয়েছি। প্রজেক্টের অনেক কাজ বাকি আছে যেগুলো টাকার জন্য করতে পারছি না। যদি সহজ শর্তে আরো কিছু লোন পাই তাহলে ফল বাগানটা আরো বড় করতে পারবো।

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন আহমেদ জানান, কুমিল্লায় সম্ভবত এর চেয়ে বড় প্রজেক্ট নেই। বিস্ময় হলেও সত্য, চারদিকে পার বাঁধানো ৬০ বিঘা জমির মাছের প্রজেক্ট এখন ফল আর সবজিতে ভরপুর। বরই গাছে বরই এসেছে, বিক্রিও করা হচ্ছে। আর লেবু রমজানের মধ্যে বিক্রি করতে পারবে। লেবুর ফাঁকে রয়েছে সাথী ফসল। আমি রীতিমত এই কৃষি প্রজেক্টটি দেখাশোনা করছি। কৃষক ইউনুছ ভূইয়ার মতো যারা উদ্যোক্তা হয়ে পরিত্যক্ত কৃষি জমিতে ফসল ফলাতে চান তাদের সার্বিক সহযোগীতায় মুরাদনগর কৃষি অফিস পাশে থাকবে।

কুমিল্লার ধ্বনি