ব্রেকিং:
বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন ঘেরাও-অগ্নিসংযোগ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতা কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক সমর্থন কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে বিএনপির সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা কমপ্লিট শাটডাউনেও চলবে মেট্রোরেল বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের প্রতি বেআইনি শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি আজ বাংলা ব্লকেড বা শাটডাউন হল ছাড়ছেন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীর পদত্যাগ তিস্তায় ভেসে আসা সেই মরদেহ ভারতের সাবেক মন্ত্রীর ঢাবির হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা সারা দেশে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ছাড়ার নির্দেশনা বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দাফন সম্পন্ন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁস: বড় হচ্ছে চক্রের তালিকা ছাগলের ভ্যাকসিন ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ মতিঝিলে ২০০ কোটি টাকার দেবোত্তর জমি উদ্ধার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ বেড়েছে আগামী বছর প্রাথমিকে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন শুরু
  • সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৭ ১৪৩১

  • || ১৪ মুহররম ১৪৪৬

ঈশ্বরচন্দ্রের বিধবা বিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে ছিল ৩৬ হাজার মানুষ

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২২  

বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ছিলেন একাধারে বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও প্রাবন্ধিক। ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম।

ছোটবেলায় শিক্ষার প্রতি তার ছিল গভীর আকর্ষণ। তবে রাতে ঘরে আলো জ্বালানোর মতো সামর্থ্য না থাকায় রাস্তায় লাইটের নিচে বসে পড়ালেখা চালিয়েছেন তিনি। এরপর গ্রামের পাঠশালা থেকে সংস্কৃত শিখে তার বাবার সঙ্গে চলে যান কলকাতায়। বাংলা, সংস্কৃতি ও ইংরেজি ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃতি কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তাকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি দেয়া হয়।

এদিকে তখনকার দিনে নারীদের শিক্ষার বিষয়টি মারাত্মক অবহেলিত ছিল। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে তখন নারীদের জন্য ৩৫টি বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। এ ছাড়াও সনাতন (হিন্দু) ধর্মে বিধবা বিয়ে নিষেধ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যখন বিধবাদের স্বামীর চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো, তখন এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এ নিয়ে পরবর্তীতে তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ‘বিধবা বিবাহ’ আইন পাস হয়। 

এ ছাড়াও বিধবা বিবাহকে আইনসংগত করার জন্য যে আবেদনপত্র দাখিল করা হয়েছিল, তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন ৯৮৭ জন ব্যক্তি। আর এ আবেদনের বিরোধিতাকারী পাল্টা আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রায় ৩৬ হাজার ব্যক্তি। এত বাধার পরও জয় হয়েছিল ঈশ্বরচন্দ্রের। শুধু প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, এ প্রথা বাতিল করাতেও সক্ষম হন তিনি। হিন্দু নারীদের কেবল স্বামীর দাসী হিসেবে বিবেচনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, মানুষ হিসেবে বিবেচনা এবং বিধবা বিয়ে চালু করতে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

এ ছাড়া সমাজসংস্কারক, শিক্ষাবিদ পরিচয়ের অন্তরালে থেকে গেছে তার হোমিওপ্যাথি-চর্চা। পুরোদস্তুর ডাক্তারবাবুর ভূমিকায় তাকে পেয়েছিলেন এলাকার আদিবাসী মানুষজন। বাড়ির বৈঠকখানাই ছিল তার অবৈতনিক ডিসপেনসারি। বিদ্যাসাগরের হোমিওপ্যাথি চর্চার ডায়েরি রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারে। 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা লিপি সংস্কারের মাধ্যমে সহজপাঠ্য করে তুলেছেন। তিনি বাংলা বর্ণমালা পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তার অবদানে, বাংলা বর্ণমালায় ১২টি স্বরবর্ণ এবং ৪০টি ব্যঞ্জনবর্ণে রূপান্তর হয়। তিনিই প্রথম বাংলায় যতি চিহ্নের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। 

বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে?’ জরিপে শ্রোতাদের মনোনীত শীর্ষ ২০ বাঙালির তালিকায় অষ্টম স্থানে আছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি যে শুধু বাংলা ভাষাকে যুক্তিগ্রাহ্য ও সবার বোধগম্য করে তুলেছিলেন তাই নয়, তিনি ছিলেন বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বাঙালি সমাজে প্রগতিশীল সংস্কারের একজন অগ্রদূত। ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই এ মহান সংস্কারকের জীবনাবসান ঘটে।