ব্রেকিং:
বিয়ের দিন বাড়িতে হাজির প্রথম স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ৫০ থেকে একশ শয্যায় উন্নীত হবে সব হাসপাতাল সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ২ রাজমিস্ত্রির মজুতদারি করে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা ইঞ্জিনে ওভার হিট, মহাখালীতে প্রাইভেটকারে আগুন ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ফিরে পেলেন ট্রাম্প অবশেষে ঝুঁকিপূর্ণ তিন রাস্তার সংযোগস্থলে গতিরোধক স্থাপন বাঙালি বিশ্ব মোড়লদের ধার ধারে না: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী যেসব কারণে ব্যাপক চাপ থাকবে সড়কে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে সরকারের কোটা সংক্রান্ত পরিপত্র বলবৎ হয়েছে পানি নিষ্কাশনে ডিএনসিসির ৫ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করছে সময় টিভির সাংবাদিকদের উপর কোটা বিরোধীদের হামলা প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গাজায় ‘যুদ্ধাবসানের সময় এসেছে’: বাইডেন ন্যাটো-রাশিয়াকে সংঘাতের ব্যাপারে সতর্ক করলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রাজধানীসহ সারাদেশে ভারী বৃষ্টি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুতে ইতিবাচক মিয়ানমার চীনা গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর
  • রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

  • || ০৬ মুহররম ১৪৪৬

কঠিন হয়ে গেল তারেকের যুক্তরাজ্যে থাকা

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৪  

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় হয়েছে লেবার পার্টির। দীর্ঘ ১০ বছর পর লেবার পার্টি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। লেবার পার্টির এই সরকার গঠনের ফলে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার যুক্তরাজ্যে থাকা কঠিন হয়ে পড়লো। লেবার পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই তারেক জিয়ার যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসছিল। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা কোন ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে বসে রাজনীতি করতে পারে কিনা এই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে লেবার পার্টির একাধিক পার্লামেন্টইন এর পক্ষ থেকে।

কনজারভেটিভ পার্টির আনুকূল্যে এবং সহযোগিতার কারণেই লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া সেখানে থাকতে পেরেছিলেন। এর আগে তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছিলো কিন্তু সেই সময় এই অভিযোগেরও তদন্ত করেনি তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকার। তারেক জিয়া সেখানে একটি কোম্পানি খুলে অবৈধভাবে লেনদেন করেছিলেন। এই অভিযোগে যুক্তরাজ্যে একটি তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু কনজারভেটিভ পার্টির কিছু নেতার অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই তদন্ত ধামাচাপা দেয়া হয়। 

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এনিয়ে লেবার পার্টির অন্তত ৩ জন সদস্য বক্তব্য রেখেছিলেন। লেবার পার্টির অভিবাসন নীতিতে তিনটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রথমত, কোন দণ্ডিত ব্যক্তি যেন যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে থাকতে না পারে। যে সমস্ত দেশ থেকে তারা অপরাধ করে এসেছেন সেই সমস্ত দেশের সঙ্গে চুক্তি করে দ্রুত তাদের ঐ দেশে ফেরত পাঠানোর নীতিতে বিশ্বাস করে লেবার পার্টি। 

দ্বিতীয়ত, লেবার পার্টি মনে করে যাদেরকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হয়েছে তা একটি মানবিক আশ্রয়। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা কোন ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। এবং এটি যদি তারা করে তাহলে যে দেশ থেকে তিনি পালিয় এসেছেন সে দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। একারণেই লেবার পার্টি সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি বন্ধের দাবি করে আসছিলো। 

তৃতীয়ত, লেবার পার্টি সবসময় মনে করে যারা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসেব নিয়মিতভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত। কারণ তারা যুক্তরাজ্যে থেকে কিভাবে বিপুল বিত্ত-বৈভবের জীবন-যাপন করছেন সে ব্যাপারে অনুসন্ধান করা উচিত। 

লেবার পার্টির এই ভূমিধস বিজয়ের ফলে এই বিষয়গুলো সামনে আসবে। সেক্ষেত্রে তারেক জিয়ার যুক্তরাজ্যে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। 

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে এক-এগারোর সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে তারেক জিয়া লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেই মুচলেকায় বলা হয়েছে, তিনি আর কখনো রাজনীতি করবেন না। কিন্তু লন্ডনে গিয়ে আস্তে আস্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এখন তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লন্ডন থেকেই দলকে পরিচালিত করছেন এবং তার বিরুদ্ধে লন্ডনে নাশকতা, চাঁদাবাজি, অর্থ-পাচারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এবার লেবার পার্টি যেহেতু নিঙ্কুশ জয় পেয়েছে সেকারণেই তারেক জিয়াকে দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এছাড়াও বিগত কনজারভেটিভ সরকারই বাংলাদেশের সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপারে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলো এছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে আসামি আদান-প্রদানের ব্যাপারেও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। এসব চুক্তি কার্যকর হলে তারেক জিয়ার লন্ডনে থাকা সম্ভব হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন লেবার পার্টি ক্ষমতা গ্রহণ করার পর বোঝা যাবে, তারেক জিয়ার ভাগ্য কিভাবে নির্ধারিত হয়।