ব্রেকিং:
পুলিশের অভিযানে নারী সহ পলাতক আসামি আটক এমপির নামে ভুয়া নিউজ প্রকাশ করায় থানায় মামলা মামলা প্রতাহারের দাবীতে প্রাননাশের হুমকি বিশ্বরোডের ছন্দু ও বড় মিয়া হোটেলকে জরিমানা শত বছরের পুরোনো মদের কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন আমানিয়া হোটেল’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের আগুনে কুমিল্লার যুবকের মৃত্যু ৬ জেলার ৪৯ জন করদাতাকে সম্মাননা নুসরাত হত্যার প্রধান আসামি এখন কুমিল্লা কারাগারে ট্রাক চাপায় এসআই নিহত নকলের দায়ে পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও ঝাড়ুদার বহিষ্কার ড্যান্ডি`তে আসক্ত নগরীর ছিন্নমূল পথশিশুরা ডায়াবেটিস প্রতিরোধের পাঁচ উপায় আর্থিক লেনদেন করা যাবে ফেসবুকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছেন ৪৮ জন নারীর মন জয় করুন এই কৌশলে তাওবার ৬ উপকারিতা সাকিব না থাকায় ভারতীয় সিকিউরিটি গার্ডের আফসোস ফোকফেস্টের পর্দা উঠছে আজ সমুদ্রের জলে ভেসে এলো ১০০০ কেজি কোকেন

শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

কুমিল্লার ধ্বনি
৪০৩

কুমিল্লার চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে সরবরাহ হয় বরুড়া আখ

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০১৯  

প্রতি বছরই বাড়ছে আখের চাষ। বরুড়ার মাটি আখ চাষের উপযোগী হওয়ায় এখানকার আখ খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি দেখতেও সুন্দর। ফলনও বেশ ভাল হয়। 

বরুড়ার সুমিষ্ট আখের কদর রয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে। এখানকার উৎপাদিত আখ কুমিল্লার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। চৈত্র মাসে লাগানো হয় আখের চারা, আর আষাঢ়ের পর থেকে পরিপক্ব হয়। এ চার মাস বরুড়ার কৃষকরা ব্যস্ত থাকে আখ চাষ নিয়ে।

বরুড়া উপজেলার কৃষি অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে বরুড়ায় ১১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছিলো। এ মৌসুমেও আমরা একই পরিমাণ জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু এবার লক্ষ্যমাত্রা ডিঙ্গিয়ে ১২০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। প্রতি বছরই এই উপজেলায় আখ চাষের জমির পরিমাণ বাড়ছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১১০ মেট্রিক টন আখ চাষ হয়। প্রতি হেক্টর জমি আখ চাষ করতে খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা। আর এই পরিমাণ জমির আখ বিক্রি করা হয় প্রায় ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায়। 

বরুড়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, এই উপজেলার কৃষকদের আখ চাষের প্রতি আগ্রহ দেখে তিনি ২২ কৃষককে সরকারি খরচে আখ চাষের উপর প্রশিক্ষণ দেন। 

কুমিল্লার এই বরুড়া উপজেলা আখ চাষে বেশ প্রসিদ্ধ। এখানকার প্রতিটি ইউপিতে কম-বেশি আখ চাষ হয়। বিশেষ করে দরগাহ নামা, বিজয়পুর, বাতাইছড়ি, ঝালগাও, এগারগ্রাম, বৈরিয়া, কামেড্ডা, শালুকীয়া, দেওড়া, ঝলম, ডেউয়াতলী, মেড্ডা, আমড়াতলী, ফলকামুড়ি, লাইজলা, দিগলগাও গ্রামে অনেক আখের চাষ হয়। এসব এলাকার আখ চাষে ফলনও হয় অনেক বেশি।

বরুড়ার অধিকাংশ কৃষক এখন আখ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। যার ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। আখের প্রতি শলা উৎপাদন করতে কৃষকের খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা। প্রতি শলা বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকা। বেশীর ভাগ আখ জমিতেই বিক্রি করে দেন কৃষকরা। বেপারীরা সময় সুযোগ করে, প্রয়োজন অনুযায়ী জমি থেকে আখ সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে।

উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আলী আকবরের ছেলে আখ চাষি শাখাওয়াত হোসেন জানান, ধান চাষে এখন আর লাভ থাকে না। কখনো কখনো উৎপাদন খরচও উঠে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একটা জমিতে ১০ হাজার টাকা খরচ করে আখ চাষ করলে সব খরচ বাদ দিয়ে কম করেও ১০ হাজার টাকা লাভ থাকে। এর উপর আছে নিজেরা এবং আত্মীয়দের আখ খাওয়া।

একই গ্রামের আলী আজ্জমের ছেলে খলিলুর রহমান বলেন, আখ চাষে শ্রমিকও কম লাগে। অনেক সময় আখ কাটার জন্য শ্রমিকও দরকার হয় না। পাইকাররাই তাদের শ্রমিক নিয়ে আসে। যেহেতু তারা জমির পুরো আখ কিনে নিয়েছে তাই তারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আখ কাটে নিজেদের মত করে। 

এলাকার বড় আখ চাষি তালুকপাড়া গ্রামের রমিজ উদ্দিনের ছেলে আবদুল হান্নান বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে আখ চাষ করি। সরকার যদি আমাদের আখ চাষের উপর সহজ শর্তে ঋণ দিত তাহলে আমরা আরো বেশি করে জমিতে আখ চাষ করতে পারতাম। আমাদের মধ্যে অনেক দরিদ্র কৃষক রয়েছে যারা মহাজনদের কাজ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আখ চাষ করে। পরে আখ উৎপাদনের সময় সুদসহ ঋণ পরিশোধ করে তাদের লাভ খুব একটা থাকে না। তিনি সরকারের কাছে বরুড়ার আখ চাষিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দাবী করেন। 

এ বিষয়ে কুমিল্লা বরুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর বরুড়ায় গত বছরের তুলনায় আখের চাষ বেশি হয়েছে। আখের চাহিদা বেশি হওয়ায় বরুড়ার আশপাশের উপজেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে এর চাষ। লাভ বেশি হওয়ায় এ ফসলটির উৎপাদন বাড়াতে সরকার চাষিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহযোগিতা করছে বলে তিনি জানান।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লার ধ্বনি
এই বিভাগের আরো খবর