ব্রেকিং:
নৌকায় লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিহত ১০, জীবিত ৩০ বাংলাদেশি মাস্কের টুইটে উত্তাল ভারতের রাজনীতি চার মাসে বিদেশে চাকরি কমেছে ২০ শতাংশ রাজধানীর বড় বড় হাসপাতাল যেন ‘বাতির নিচে অন্ধকার’ ঈদের দিন যেসব উন্নত খাবার পেলেন কারাবন্দিরা আসুন ত্যাগের মহিমায় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করি হাসিল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বাজারে লঙ্কাকাণ্ড টিনের বেড়ায় বিদ্যুতের তার চাঁদপুরে অর্ধশত গ্রামে ঈদ উদযাপন স্বস্তিতে ঘরমুখো মানুষ যেভাবে গড়ে ওঠে শতবর্ষী কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ বেশি ভাড়া রাখায় উপকূল পরিবহনকে জরিমানা মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ রাখাইনে বড় সংঘাতের আশঙ্কা, বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ একদিনে পদ্মাসেতুর আয় পৌনে ৫ কোটি টাকা চামড়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে র‌্যাবের কঠোর হুঁশিয়ারি ঈদে ট্রেনে মানুষের নির্বিঘ্নে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ খাদ্যসামগ্রী ও দেড় শতাধিক মানুষ নিয়ে জাহাজ গেল সেন্ট মার্টিন কুমিল্লায় বেতন-বোনাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
  • মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৪ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

কুমিল্লার সাবরেজিস্ট্রারকে ঘুষ দিতে হয় প্রতি মাসে কোটি টাকা!

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৪  

কুমিল্লার সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য যেন ওপেন সিক্রেট।সাবরেজিস্ট্রার, দলিল লেখক, সিন্ডিকেট, দালালচক্র সবাইকে দিতে হয় ঘুষ। এ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যেন চলছে ঘুষের মহোৎসব।

সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন কোটি টাকা থেকে শুরু করে শতকোটি টাকার দলিল সম্পাদন হয়ে থাকে বলে জানা যায়। এ কার্যালয়ের সাবরেজিস্ট্রার মো. হানিফ প্রায় ২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরই মধ্যে তিনি গত দুই বছরে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেবাগ্রহীতা, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দলিল লেখক, দালালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলিল সম্পাদন, নকল (সার্টিফায়েড) কপি, টিপসইসহ নানা খাতে প্রতি মাসে সাবরেজিস্ট্রারকে কমপক্ষে এক কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়।

এরইমধ্যে দুর্নীতিবিরোধী খবর ছড়িয়ে পড়ায় নিজের এসব অপকর্ম ঢাকতে ঐ সাবরেজিস্ট্রার বদলি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাবরেজিস্ট্রারকে প্রতি দলিলে সেরেস্তার নামে ৩ হাজার টাকা, দলিলের টিপসই বাবদ ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা ও প্রতিটি দলিলের নকল কপিতে (সার্টিফায়েড) স্বাক্ষর করতে দিতে হয় অতিরিক্ত এক হাজার টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন কাগজের প্রকারভেদ এবং দলিলের মূল্যের ওপর সাবরেজিস্ট্রারকে ঘুষ দিতে হয় ১০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। সাবরেজিস্ট্রার এসব ঘুষের টাকা নিজের হাতে নেন না। সেরেস্তার টাকাটা নেয়া হয় মোক্তারদের মাধ্যমে।

আরো জানা গেছে, নকল স্বাক্ষরের টাকা নকলনবিশদের মাধ্যমে আর টিপসইয়ের টাকা নেয়া হয় পিয়নের মাধ্যমে। উচ্চমূল্যের দলিল এবং ছোটখাটো ত্রুটিযুক্ত দলিলের ক্ষেত্রে কন্ট্রাক্ট করার জন্য রয়েছে দালাল সিন্ডিকেট। অফিস সহকারী এবং পিয়নদের মাধ্যমে কন্ট্রাক্ট হওয়ার সিগন্যাল পেলেই দলিলে স্বাক্ষর করে দেন সাবরেজিস্ট্রার।

সাবরেজিস্ট্রি অফিসে প্রতি মাসে গড়ে দলিল রেজিস্ট্রি হয় প্রায় ১ হাজার। দলিলের নকলের চাহিদা বেশি থাকায় স্বাক্ষর হয় প্রায় ১ হাজারের অধিক। এসব রেজিস্ট্রিকৃত দলিল থেকে সেরেস্তা, নকল, টিপসই ও বিভিন্ন অজুহাতে প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ১ কোটি টাকা ঘুষ নিচ্ছেন সাবরেজিস্ট্রার মো. হানিফ। যার পুরো টাকাটাই আদায় করা হয় সরকার নির্ধারিত দলিল ফির বাইরে।

একাধিক ডেভেলপার কোম্পানির প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি ফ্ল্যাট দলিল করতে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে নানা অজুহাতে ৫-১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।  

জানা গেছে, এখানে দলিল লেখকরা সাবরেজিস্ট্রার এবং অফিস খরচের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।

সাবরেজিস্ট্রার মো. হানিফ বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো টাকা-পয়সা নেই না। দলিল লেখক এবং দালাল সিন্ডিকেট সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয় বলে শুনেছি। কিন্তু এর দায় আমার না। কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নিতাম। দলিল সাবমিট প্রসেস ডিজিটালাইজড না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানির শিকার এবং অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে।