ব্রেকিং:
৩৯তম বিসিএসে চার হাজার ৪৪৩ চিকিৎসক নিয়োগ সেনাবাহিনী প্রধান সেনা কল্যাণ সংস্থার ৪টি স্থাপনা উদ্বোধন করেছেন কাল-পরশু পেঁয়াজের দাম আরো কমবে লবণ ইস্যুতে মাঠে পুলিশ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিবহন ধর্মঘট,পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা! কয়েদি পোষাকে ফাঁসির অপেক্ষায় দিন গুণছেন সিরাজউদ্দৌলা দুর্ধর্ষ চোর ইসমাইল গ্রেফতার তিন ফার্মেসীকে জরিমানা মেকআপ এন্ড নেইল আর্ট বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা চাঁদা না পেয়ে ব্রিকফিল্ড ম্যানেজারকে পিটিয়ে আহত অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে তাহসিন পেট্রোল বোমা মামলায় মালামাল ক্রোকের আদেশ পেছাল শক্তিশালী দল গড়েছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ চিকিৎসকের জীবন বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন ১০ লাখ টাকার সেগুন কাঠ আটক আবর্জনার স্তূপে ৭০ বস্তা পেঁয়াজ! সাজেকে চান্দের গাড়ির ভাড়া নির্ধারণ দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার বেড়েছে ডলারের দাম

বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

কুমিল্লার ধ্বনি
৫১৫

কুমিল্লায় ফের অস্থির পেঁয়াজের দর

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৯  

মাসুদ আলম।।  ফের অস্থির হয়ে উঠেছে কুমিল্লা পেঁয়াজের বাজার। জেলা প্রশাসনের নজরদারীরও অস্থিরতা ঠেকানো যাচ্ছে না।
পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের। আমদানিকারক এবং পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে দাম উঠানামা করলেও, বাজারে খুচরা বিক্রেতারা দাম নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। দাম বৃদ্ধির ইস্যুতে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের একাধিকবার মতবিনিময় হয়। সভায় দাম বাড়বে না বলে প্রশাসনকে আশ^স্ত কলেও কথা রাখছেন না ব্যবসায়ীরা।
এদিকে কুমিল্লা বিভিন্ন বাজারে কিছু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের বিকিকিনি করছেন সীমিত। আবার কিছু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের কেনা-বেচা বন্ধ করে দিয়েছেন।
কুমিল্লা নগরীর নিউমার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী শংকর সাহা প্রতিদিনি গড়ে ৫০-৭০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। বর্তমানে পেঁয়াজের কেজি ‘একশ’ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ বর্তমান পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় ভোক্তারা গালাগালও করছেন বলে তার অভিযোগ।
রোববার বাজার ঘুরে জানা যায়, রফতানি জটিলতায় আট থাকা পুরনো এলসি দিয়ে কিছু পেঁয়াজ কুমিল্লার বাজারে এসেছে। বাকী থাকা টাকার থেকে বাড়তি দাম রেখে ভারতের ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ দিয়েছে। এদিকে বর্তমানে মিয়ানমার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। কিন্তু পাইকারিতে ব্যবসায়ীরা পচা পেঁয়াজের অজুহাত দিয়ে পেঁয়াজ ৮৭-৯০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বাজারে। একই পোঁয়াজ ৮৭-৯০ টাকা দরে ক্রয় করে খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে ৯৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে সহজে বুঝা যায় ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছেন।
কুমিল্লা চকবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে আসা ১২টির মতো ট্রাক পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে। তবে এখনো পাইকারিতে মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৮৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ পেঁয়াজের আমদানি খরচ তুলনামূলক হারে অনেক কম। অন্যদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ ৯৫ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছে খুচরা ব্যবসায়ীরা।
কয়েকজন আড়তদার জানান, ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার আগে পেঁয়াজের যেসব এলসি খোলা হয়, সেই পেঁয়াজগুলোও এখন বাজারে আসছে। তবে তা পরিমাণে খুব বেশি নয়। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের গুণগত মান কিছুটা খারাপ। দেখা যায় এক বস্তা পেঁয়াজের মধ্যে ৩০ শতাংশই থাকে নষ্ট পেঁয়াজ।
চকবাজার পেঁয়াজের পাইকারী ব্যবসায়ী নকুল মোদক জানান, বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের গাড়ি আসছে কম। এলসিতে বাকী থাকা কিছু পেঁয়াজ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ, সাতক্ষীরার ভোমরা এবং হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে এসেছে। বর্তমানে ওই সীমান্তগুলো দিয়ে পেঁয়াজের আমদানী নেই।
তিনি আরও জানান, আমদানিকারক যে দরে বিক্রি করতে বলেন আমাদের সেই দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। এছাড়া পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য। কোনো ব্যবসায়ী চাইলেই পেঁয়াজ গুদামজাত করে রাখতে পারবে না। মূলত ভারত রপ্তানি বন্ধ করার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে না।
পেঁয়াজ কিনতে আসা শরীফুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, পেঁয়াজের বাজার দীর্ঘদিন যাবত অস্থির। আমরা গণমাধ্যমে দেখি পাশ^বর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসছে। বাজারেও দাম কমেছে। কিন্তু কুমিল্লার বাজারগুলোতে আসলে পেঁয়াজের দামের দৃশ্য একই দেখা যায়। প্রশাসন যখন অভিযান বা মনিটরিং করে তখন বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। আবার যখন প্রশাসন মনিটরিং বন্ধ করে দেয় তখন ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দর যাচাই এবং মনিটরিং আমাদের অব্যাহত রয়েছে। কোন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ফেলেই সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের বাজারগুলো চাহিদা অনুযায়ী যোগান না থাকায় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। তারপরও আমাদের বলা আছে ক্রয়কৃত মূল্য চেয়ে ৫ টাকার বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লার ধ্বনি
এই বিভাগের আরো খবর