ব্রেকিং:
তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকায় সেচ কার্যক্রম শুরু সিকৃবির সাফল্য: অভয়াশ্রমে রক্ষা দেশীয় মাছ ফসলের ফলন বাড়ছে তরল সার উদ্ভাবনে প্রাণ ফিরেছে পর্যটনে, জমজমাট হোটেল ব্যবসা দুর্গম চরে আশার আলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০৯১ গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার অক্সিজেনের ন্যূনতম মূল্য ১০০-১২০ টাকা টিকা দেওয়ার ছক প্রস্তুত উন্নয়ন দেখতে বাংলাদেশে আসতে চান বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ মহাকাশ চর্চার যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের বাসায় রাখা নিশ্চিত করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নতুন ৬ মেডিকেল কলেজের মাস্টারপ্ল্যান শরীয়তপুরে ধর্ষণ মামলার মীমাংসা করতে ডেকে নিয়ে ফের গণধর্ষণ সরকারি স্কুলে ২০ জানুয়ারির মধ্যে ভর্তির নির্দেশ বিএসএফের আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে বিজিবি ৭০০০ অ্যাম্বুল্যান্স মালিক যুক্ত হয়েছেন ৯৯৯ জরুরি সেবায় হোয়াইট হাউজের শীর্ষ পদে বাংলাদেশের জায়ান স্বাভাবিক জীবনে ৯ জঙ্গি আবিদা বলল, ভুল পথে ছিলাম বিশ্বজুড়ে করোনায় ২০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু রাজনীতি ছেড়ে দেব এমপি বাহার,কিন্তু কেন ??
  • শনিবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৩ ১৪২৭

  • || ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

১১৪

কুমিল্লা টাউন হল নিয়ে গণশুনানি হাস্যকর: এমপি সীমা

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০২০  

কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে অবস্থিত বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন (টাউন হল) পুরাকীর্তি হবে, নাকি হবে না—এ নিয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত গণশুনানিকে হাস্যকর বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা।

তিনি বলেন, ‘টাউন হল ভেঙে নতুন ভবন করার পক্ষে হাস্যকর গণশুনানিতে যে ৩৭ জন বক্তব্য দিয়েছেন, তারা সবাই এমপি বাহাউদ্দিনের অনুসারী ছিলেন। কুমিল্লার কোনও সাধারণ নাগরিক ওই গণশুনানিতে কথা বলার সুযোগ পাননি। কারণ, তিনি জানেন এমপির অনুসারীদের বাইরে কুমিল্লার ৬০ লাখ মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী টাউন হল ভেঙে ফেলার পক্ষে নয়। তারা টাউন হলকে পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের পক্ষে। কারণ, এই টাউন হল কুমিল্লার ঐতিহ্য বহন করে।’ 

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় মডার্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কুমিল্লার ঐতিহ্যের আইকন টাউন হল নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশ্বাসী। এই ধারাবাহিকতায় ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য টাউন হলের জায়গায় ব্যবসায়িক কারণে নির্মিত বহুতল সুপার মার্কেট ভেঙে সেখানে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’

গণশুনানিতে মতামত, স্বাক্ষর গ্রহণ ও মানববন্ধনের প্রসঙ্গ টেনে এমপি সীমা বলেন, ‘সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিনের পছন্দের লোকজনের তালিকা করে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বাক্সে মতামত ফেলা হয়েছে। এছাড়া মানববন্ধনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার নেতাদের ব্যানার নিয়ে গণশুনানি ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। বাসে বাসে বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম থেকে মানুষ ভাড়া করে এনেছে সড়ক বন্ধ করে ব্যানার হাতে দাঁড়ানোর জন্য। সেখানে শুধু ওই এমপির অনুসারী লোকজনই ছিলেন। এছাড়া ১৯৯৫ সাল থেকে টাউন হলের কমিটিতে ঘুরেফিরে ওই এমপির অনুসারীরা রয়েছেন। ব্যবসায়িক স্বার্থেই সেখানে আধুনিক টাউন হল কমপ্লেক্স নির্মাণের নামে ঐতিহ্যের টাউন হল ভেঙে ফেলার তোড়জোড় চালানো হচ্ছে।’

টাউন হলসীমা বলেন, ‘গণশুনানিতে এমপি বাহাউদ্দিন বলেছেন, “বীরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুর এক টাকা নিয়ে টাউন হলের জমি দিয়েছেন, কুমিল্লাবাসীর অর্থে এটা নির্মিত হয়েছে, তাই ভারত সরকার চিঠি দিয়ে টাউন হল পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারবে না”—এসব কথা বলে তিনি ত্রিপুরার রাজা মানিক্য বাহাদুরের প্রতি অবজ্ঞা করেছেন।’

এমপি সীমা জেলার মন্ত্রী, অন্যান্য সংসদীয় আসনের এমপি ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে টাউন হলের ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা খাদেম মো. ফিরোজ, পাপন পাল, মো. শাহজাহান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৮৮৫ সালে তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুর কুমিল্লা শহরের কেন্দ্রস্থলে দৃষ্টিনন্দন টাউন হল ভবন নির্মাণ করেন। গত ২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সভায় টাউন হলের ভবন ভেঙে সেখানে আধুনিক মানের টাউন হল কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান স্থানীয় এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে এ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ভবন পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে দেশের খ্যাতনামা ৫০ জন বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ‘টাউন হল পুরাকীর্তি হবে কি হবে না’ তা নিয়ে প্রতিবেদন দিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াসকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের কমিটি করে। ওই কমিটি গত ৯ ডিসেম্বর টাউন হল সরেজমিন পরিদর্শনের পর বৈঠক শেষে ১৯ ডিসেম্বর গণশুনানির তারিখ ঘোষণা করে।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর