ব্রেকিং:
সবজির পাশাপাশি আলু-পেঁয়াজেও মিলছে স্বস্তি হাম-রুবেলার টিকাদানে অংশ না নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ক্রিকেটে ৯৯ দেশকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ দেশে একদিনে মৃত্যু ২৪, আক্রান্ত ২ হাজারের বেশি ভাসানচরে পৌঁছাল ১৬৪২ রোহিঙ্গা চক্রান্ত রুখতে কঠোর অবস্থান গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা: যাচাই হবে ৫৫ হাজার সনদ করোনার অজুহাতে অফিসে অনুপস্থিত থাকা যাবে না ১০ জেলায় করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বগুড়ায় রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বদলাবে চট্টগ্রাম মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একাট্টা দেশ অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন পাকিস্তানের ১৯৭১ সালের নৃশংসতা অমার্জনীয় : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিশ্বে একদিনে আক্রান্ত ৬ লাখ ৭৯ হাজার আট জাহাজে চড়ে ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গারা মায়ের কোল খুঁজে পেল কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশুটি ৩৫ বছর পর স্বপ্নের পা ফিরে পেলেন স্বপন এক ভাইয়ের জানাজার পর আরেক ভাইয়ের মৃত্যু
  • শনিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৭

  • || ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

৪৯

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষ

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২০  

করোনা মহামারির কারণে থমকে গিয়েছিল মানুষের জীবন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে স্বল্প আয়ের মানুষ। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেটাই স্বাভাবিক। এ কারণে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে তারা। দিনদিন বাড়ছে তাদের আয়, দূর হচ্ছে অভাব-অনটন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্বল্প আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

তারা জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে কারখানা, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন বন্ধ থাকায় শহর-গ্রাম সবখানেই বিরূপ প্রভাব পড়ে। আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে পড়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ নেমে আসে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে। প্রায় ছয় মাস পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জীবনযাত্রা। খুলেছে কারখানা-অফিস-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন। এতে আয়ের উৎস ফিরে পেয়েছে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষকরা। দিনদিন বাড়ছে তাদের আয়, ঘুরতে শুরু করেছে অর্থনীতির চাকা।

 

আখাউড়া সড়ক বাজার মোটর স্ট্যান্ডের এক কলা বিক্রেতা

আখাউড়া সড়ক বাজার মোটর স্ট্যান্ডের এক কলা বিক্রেতা

আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রামের সিএনজি চালক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। সিএনজি চালিয়ে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলতো। করোনায় প্রায় পাঁচ রোজগার একেবারে বন্ধ ছিল। যা সঞ্চয় ছিল, বসে থেকে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে যাই। কিছুদিন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিদারুণ কষ্ট করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক, সিএনজি নিয়ে বের হলে সব খরচ বাদ দিলেও দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা আয় হচ্ছে। দিনদিন আমার আয় বাড়ছে। পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি।

আখাউড়া রেলস্টেশনে তিন বছর ধরে চা-বিস্কুট-পাউরুটি-কলা বিক্রি করছেন সোহাগ। তিনি বলেন, করোনায় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বেচা-কেনা বন্ধ হয়ে যায়। স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্ট করেছি। আগে দৈনিক ১৫০০-১৮০০ টাকা আয় হতো। করোনায় দীর্ঘদিন আয় বন্ধ থাকায় খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটিয়েছি। কয়েকদিন ধরে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় পুনরায় বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। এখন দৈনিক ৮০০-১০০০ টাকা আয় হচ্ছে। দিনদিন ট্রেনে যাত্রী বাড়ছে। আশা করি, আয় আরো বাড়বে।

 

আখাউড়ার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি পোশাক বিক্রি করছেন এক ভ্রাম্যমাণ হকার

আখাউড়ার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি পোশাক বিক্রি করছেন এক ভ্রাম্যমাণ হকার

সড়ক বাজার মোটর স্ট্যান্ডের চা বিক্রেতা হারুন বলেন, এক সময় সকাল-সন্ধ্যা ৪০০-৫০০ কাপ চা বিক্রি হতো। স্ট্যান্ডে সবসময় মানুষের আনাগোনা ছিল। কিন্তু করোনায় সব থমকে গিয়েছিল, মানুষ ঘর থেকেই বের হতে পারতো না। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। আয় আগের মতো না হলেও দিনদিন বাড়ছে। বর্তমানে ২০০-২৫০ কাপ চা বিক্রি করি। পরিবার নিয়ে মোটামুটি চলতে পারি।

আয় বেড়েছে ট্রেন নির্ভর হকারদেরও। সুমন, ইয়াসিন, ফারুকসহ কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ হকার বলেন, করোনায় ট্রেন বন্ধ থাকায় আমাদের বুট, বাদাম, চানাচুর বেচা-কেনাও বন্ধ হয়ে যায়। এখন ট্রেন চলাচল করলেও আগের মতো যাত্রী হচ্ছে না। ট্রেনে এসব খাবারও আগের মতো বিক্রি হচ্ছে না। আগে ১০০০-১২০০ টাকা আয় হতো। এখন ৬০০-৭০০ টাকা আয় হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি দিনদিন উন্নত হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত আগের মতো আয়-রোজগার হবে।

আখাউড়া পৌর শহরের রিকশাচালক মো. আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মানুষও হাট-বাজারে যাতায়াত করছে। দৈনিক আয় বাড়ছে।

কুমিল্লার ধ্বনি
সারাবাংলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর