ব্রেকিং:
রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে শেখ হাসিনা কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক: কাদের ভুল নীতিতে ডুবছে পাকিস্তান, সঠিক নীতিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ চলমান ‘লকডাউন’ ২৩ মে পর্যন্ত বাড়ছে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর নামে সড়ক, শেখ হাসিনার নামে বাড়ি ফিলিস্তিনে পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন, বাংলাদেশিদের রবিবার থেকে এনওসি দেওয়া হবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক পূর্তিতে তথ্যচিত্র ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টাউকটে’ তিন ওয়ানডে খেলতে ঢাকায় শ্রীলংকা ক্রিকেট দল ইসরায়েলকে সমর্থন জানিয়ে বাইডেনের ফোন ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৯ ফের বাড়ল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ঈদ উপলক্ষে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার আরো সাতদিন বাড়ছে লকডাউন, রোববার প্রজ্ঞাপন করোনায় ভাই হারালেন মমতা ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজার খুলছে কাল গাজায় ৪০ মিনিটে ৪৫০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইসরায়েল স্বাস্থ্যবিধি পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান কাদেরের দেশেই টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী উপকূলের ঘরে ঘরে ডিজিটাল ব্যাংক ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরার ব্যবস্থা ঈদের পর
  • রোববার   ১৬ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে পিয়নের ছেলে আরবি

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২১  

মো. আহসানুজ্জামান হারুন চাঁদপুর সরকারি কলেজে ২২ বছর ধরে পিয়নের চাকরি করছেন। ৭০০ টাকা থেকে বেতন হয়েছে বর্তমানে ৭০০০ টাকা। কলেজের সবাই তাকে হারুন নামেই চেনে। একই কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনা করতো পিয়ন হারুনের বড় ছেলে মো. মেহেদী হাসান আরবি। 

পিয়নের ছেলে বলে অনেক সময় বন্ধু-বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশী ঠাট্টা বা মজা করতো। আর তাদের এই ঠাট্টা বা মজা করার কারণেই বাবার কষ্টকে নিজের চোখে দেখার সুযোগ হয়েছে বলে জানালেন আরবি। সম্প্রতি এমবিবিএস ভর্তি পরিক্ষায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে মেধা তালিকায় ১৬৭৭ তম হয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সে। 

স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মো. আহসানুজ্জামান হারুনের সংসার। স্ত্রী আকলিমা আক্তার নিজ ১৬২ নং নিজ গাছতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। স্বামী স্ত্রীর আয় দিয়েই চলে সংসার ও ছেলেদের পড়াশুনা। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে আরবি বড়। সে হাসান আলী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও চাঁদপুর সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ অর্জন করে। আর ছোট ছেলে মাহমুদুল হাসান সাদি হাসান আলী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে
বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে। বর্তমানে সে চাঁদপুর সরকারি কলেজে এইচএসসিতে অধ্যয়নরত রয়েছে। দুই সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের রয়েছে অনেক স্বপ্ন।

আরবির মা আকলিমা আক্তার জানান, টানাহেচড়া করে সংসার চালিয়েছি। তবে সন্তানদের পড়াশুনার ব্যয় সবসময় কষ্ট হলেও চালিয়ে গেছি। মেডিকেলে আমার সন্তান ভর্তি হবার সুযোগ হয়েছে। তা শুনে অনেক খুশি হয়েছি। এখন আল্লাহ যেন আমাদের ও ছেলের চিকিৎসক হওয়ার মনের আশা পূরণ করে সেই দোয়া করি।

মো. আহসানুজ্জামান হারুন জানান, নিজে পড়ালেখা কম করায় কাজ করতাম ইলেক্ট্রিশিয়ানের। পরে চাঁদপুর সরকারি কলেজে কাজ করার সুযোগ হয়। ২২ বছর ধরে কাজ করছি। সারাজীবন কষ্ট করেই গেলাম। ছেলে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাইছে শুনে খুশি হইছি। তবে এখানে পড়ালেখা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। পারিবারিকভাবে তো চেষ্টা করবোই। আর পাশাপাশি যদি কেউ আরবির চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরনে এগিয়ে আসে তাহলে তার আশা পূরণ হবে।

আরবি বলেন, আমি বাবা-মায়ের পর শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞ। শিক্ষকরা সবসময় ক্লাসে খেয়াল রেখেছেন, ভাল মন্দ ডাক দিয়েছেন। অনেক শিক্ষক প্রাইভেটের টাকাও নেন নি। সবসময় শিক্ষকরা পড়ালেখায় উৎসাহ দিয়েছেন। আর বাবা মায়ের কথা অস্বীকার করার নয়। বিশেষ করে বাবার কথা। কলেজে সহপাঠিসহ অনেকে আমাকে পিয়নের ছেলে বলে ঠাট্টা মজা করতো। তাদের কথায় আমার কখনো খারাপ লাগতো না। আমি বলবো আমার কষ্ট নয় বরং ভাগ্য হয়েছে চোখের সামনে বাবার কষ্ট দেখতে পেয়েছি। এখন আমার স্বপ্ন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা। এই জন্য সবার দোয়া কামনা করি।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাস বলেন, আমাদের কলেজের পিয়ন হারুনের ছেলে মেডিকেলে ভর্তি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এটা সত্যিই আনন্দের বিষয়। সে এই কলেজ থেকেই এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। মেডিকেলে পড়ালেখা অনেক ব্যয়বহুল। আর্থিক সংকটে পড়লে আমরা অবশ্যই তাকে সহায়তা করবো।