ব্রেকিং:
আরো ৩ দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকবে হোমনা টু কুমিল্লা একতা ডিজিটাল বাস সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন দেশে থাকবে না কোন অবৈধ রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং আন্দোলন নামতে অনীহা বিএনপির, চটেছেন তারেক রহমান বাইডেনের শপথ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্যে সতর্কতা প্রধানমন্ত্রী নিয়ে শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফোর লেন প্রকল্প নিয়ে চাঁদাবাজি দুজনকে গ্রেফতার মতলবে ডিশ ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ৫ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত সরকার পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বিজয়ী কাউন্সিলর নিহত ৪৬ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের জয় প্রার্থীদের নিয়ে আচরনবিধি সংক্রান্ত প্রশাসনের মত-বিনিময় মাদ্রাসা ছাত্রীকে এক বছর ধরে ফুসলিয়ে ধর্ষণ মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী ফ্রিজকাপ মিনি ফুটবল টূর্ণামেন্ট কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর ফ্রি ভেটেরিনারী ক্যাম্পেইন বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীরা জেনে নিন দেশে একদিনের ব্যবধানে মৃত্যু বেড়েছে নতুন ঠিকানায় যাওয়ার অপেক্ষায় খানসামার ৪১০ গৃহহীন পরিবার নরওয়েতে ফাইজারের টিকা নেয়ার পর ২৩ জনের মৃত্যু ফখরুলকে হঠাতে গোপন কার্যক্রমে লিপ্ত রিজভী বাড়তি চমক দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুললেন জ্যাকলিন
  • রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৪ ১৪২৭

  • || ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

১৩

ছয় বছরের চেষ্টায় সাফল্য, ফিরে এলো ঢাকাই মসলিন!

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২১  

মসলিন ‘ঢাকাই মসলিন’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এক ধরনের মিহি সুতিবস্ত্র। ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে উৎপন্ন অতি চিকন সুতা দিয়ে তৈরি হতো মসলিন। দেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া এই মসলিন ১৭০ বছর পর আবার ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন একদল গবেষক। দীর্ঘ ছয় বছরের চেষ্টায় আবারো মসলিন বুনতে সক্ষম হয়েছেন তারা। প্রচলিত আছে, কারিগরদের আঙুল কেটে দেয়ার পরে ঢাকাই মসলিন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়।

২০১৪ সালের অক্টোবরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মসলিনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। পরে গবেষণাকাজের স্বার্থে আরো সাত সদস্যকে কমিটিতে যুক্ত করা হয়। প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেনকে।

অর্ধ যুগের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় ধরা দেয়া সাফল্যের গল্প জানাতে ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিলেন মনজুর হোসেন। শুনাচ্ছিলেন মসলিন তৈরির গল্প।

তিনি বলেন, বই থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মসলিন কাপড় বোনার জন্য ‘ফুটি কার্পাস’ এর কথা জানতে পারি। পূর্ব ভারত তথা বাংলাদেশে এই গাছ চাষ হতো। মসলিন কাপড়ের নমুনা পেলে তার সুতার ডিএনএ সিকুয়েন্স ফুটি কার্পাস গাছের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই হয়তো কোন তথ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের হাতে কোনো মসলিন কাপড়, ফুটি কার্পাস কোনোটাই ছিল না।

ফুটি কার্পাস তুলা সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জায়গাতে খোঁজখবর নিয়েছি। এরমধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাস দেখে গাজীপুরের কাপাশিয়া থেকে একজন ছাত্র আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। জানায়, কাপাশিয়ায় এই তুলার চাষ হতো। গাছের খোঁজে সে এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসাতে চিঠি পাঠানো হয়, মাইকিং করা হয়। পরে সেখানে নয়টা তুলা গাছ পাই। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৮ প্রজাতির তুলা গাছের সন্ধান পাই। সংগ্রহ করা এসব গাছ রাবির গবেষণা মাঠে চাষ শুরু করি।

স্থানীয় উৎস থেকে মসলিন খোঁজতে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আট টুকরো কাপড়ও সংগ্রহ করা হয়। সেগুলোর কোনোটি মসলিন ছিলো না। পরে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। একপর্যায়ে মসলিনের নমুনা সংগ্রহের জন্য ভারতের ন্যাশনাল মিউজিয়াম কলকাতায় যাই। কিন্তু সেখানেও পাওয়া যায়নি। পরে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়ামে যাওয়া হয়। সেখানে মসলিনের কাপড়ের নমুনা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়।

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, কাপাশিয়া থেকে সংগ্রহ থেকে করা তুলার আঁশ বেশি শক্ত, সাদা ধবধবে। এটা মসলিনের সেই সুতার কাছাকাছি যেতে পারে এমন ধারণা ছিলো। তারপর লন্ডন থেকে সংগৃহীত মসলিন কাপড়ের ডিএনএ আর সেই তুলার ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হলো কাপাসিয়া থেকে সংগ্রহ করা তুলার জাতটা ফুটি কার্পাস।

মসলিন তৈরি করার জন্য সাধারণত ৩০০-৫০০ কাউন্টের সুতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু ফুটি কার্পাস থেকে ৫০০ কাউন্টের সুতা তৈরি করা সহজ নয়। এই সুতা আধুনিক যন্ত্রে হবে না, চরকায় কাটতে হবে। চরকায় সুতা কাটা তাঁতীদের খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে কুমিল্লা পাওয়া যায়। কিন্তু তারা মোটা সুতা কাটেন যাতে কাউন্টের মাপ আসেনা। পরে তাদের ৪০ জনকে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত ছয় জনকে বাছাই করা হয়। বাছাই করতেই প্রায় দুই বছর সময় লেগে যায়।

ড. মনজুর বলেন, অবশেষে সুতা নিয়ে তাঁতীর দুয়ারে হাজির হলাম। নারায়ণগঞ্জে দুজন তাঁতীর খোঁজ পেলাম। কিন্তু এত মিহি সুতা দিয়ে কেউ বানাতে রাজি হচ্ছিল না। পরে তাদের কয়েক ধাপে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। বহু কষ্টে তারা বুনন পদ্ধতি রপ্ত করে। অবশেষে ১৭১০ সালে বোনা শাড়ির নকশা দেখে হুবহু একটি শাড়ি বুনে ফেলেন তাঁতীরা। প্রথম অবস্থায় শাড়িটি তৈরি করতে খরচ পড়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মোট ছয়টি শাড়ি তৈরি করা হয় একটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। বরাদ্দের ৩০ শতাংশ খরচ হয়েছে অবশিষ্ট প্রায় ৭০ শতাংশ টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। আমাদের যথেষ্ট লোকবল, সুতা, তাঁত আছে। আশা করছি আরো শাড়ি তৈরি করা সম্ভব হবে। কমার্শিয়াল বা ব্যবসা কেন্দ্রিক শাড়ি তৈরি করার জন্য সরকারিভাবে বিশেষ পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লার ধ্বনি
শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর