ব্রেকিং:
‘প্রাণ-মিল্কভিটা-আড়ংসহ পাস্তুরিত সব দুধই মানহীন’ বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে লিভার প্রতিস্থাপনে সফল অস্ত্রোপচার ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য শূন্যের কোটায় আসবে কালো সোনা সাদা করে হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে সরকার মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশনে আপত্তি, নার্সকে পেটাল ফার্মেসির লোক ২৮ জুন বসবে পদ্মা সেতুর ১৪তম স্প্যান ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ; ৯৯৯-এ ফোন করে শাহান মিয়া বাঁচালো ৩০০ প্রাণ সততার পুরস্কার পেলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ১৫ কর্মকর্তা দুদক কার্যালয়েই হবে দুর্নীতির মামলা ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে হজ পালনের ব্যয় কম দিনের আলোয় বৃদ্ধার টাকা ভুল হাতে দিলো ব্যাংক ‘হার কিসি কো, নেহি মিলতা’ গেয়েই গোল্ডেন গিটার মিললো নোবেলের প্রথম দিনে বৈধ হ‌লো ২৫ কোটি টাকার স্বর্ণ ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি বাংলাদেশকে জিম্বাবুয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ক্রিকেটানুরাগীদের আওয়ামী লীগই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে: শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণে হাইকোর্টের রায়ই বহাল জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রথম দুই নারী সামরিক পাইলট (ভিডিও) কমবে বৃষ্টির পরিমান, বাড়বে ভ্যাপসা গরম সজীব ওয়াজেদ জয় গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেল ১৪০ পরিবার

বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯   আষাঢ় ১১ ১৪২৬   ২২ শাওয়াল ১৪৪০

কুমিল্লার ধ্বনি
৮০২

জাল টাকার ব্যবসায়ীরা যেন ড্রাগন হেডেড

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০১৯  

ক’দিন পর মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বড় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর (রোজার ঈদ)। আর পবিত্র উৎসবকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছে জাল টাকার ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর রমজানের আগে থেকেই এসব জালিয়াত-প্রতারকরা জাল টাকা তৈরি করে বাজারে ছাড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্তক তৎপরতায় এবার তেমন সুবিধা করতে পারেনি চক্রটি। কিন্তু রমজানে থেমে নেই দুস্কৃতিকারীদের দৌড়ঝাপ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু রাজধানীতেই জাল টাকা তৈরির ৭/৮টি বড় চক্র রয়েছে। এছাড়া ছোট ছোট দল রয়েছে ২০ থেকে ২৫টি। তারাই মূলত জাল টাকা বা রূপী এমন কি জাল ইউরো ও ডলারের নোট তৈরি ও সরবরাহ করে। ঈদের মত উৎসবগুলোতে বড় চক্রগুলো শতকোটি জাল টাকা’র টার্গেটে বাজারে নামে। আর ছোট ছোট দলগুলোর টার্গেট থাকে ২০/৩০ কোটি টাকা।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে আটক এসব চক্রের সদস্যরা স্বীকার করেছে- জাতীয় কোনো বিশেষ দিন বা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখেই তারা জাল টাকা তৈরি করে ছড়িয়ে দেয় দেশজুড়ে। ধরা পড়লে জামিনে বেরিয়ে এসেই আবার একই অপরাধকর্মে জড়িয়ে পরে। অপরদিকে যেসব গড ফাদাররা কারাগারে আছে কিন্তু জামিন পাচ্ছেন না, তারা কারাগার থেকেই চক্রের নিয়ন্ত্রণ করছে। 

গত ১১ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগের (ডিবি) গাড়ি চুরি/ছিনতাই প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিম এমনই চক্রের ৩ জনকে গ্রেফতার করে। কামরাঙ্গীরচর থানার র্পূব রসুলপুর ও রাজধানীর চকবাজারের ইসলামবাগ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম-জীবন ওরফে সবুজ (২৮), জামাল উদ্দিন (৩২) ও বাবুল ওরফে বাবু (২৪)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের জাল টাকা, একটি ল্যাপটপ ও ২টি প্রিন্টারসহ জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম।

এ বিষয়ে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের ডিসি মো. মাসুদুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ওই চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। ঢাকার কামরাঙ্গীচরের পূর্ব রসুলপুরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সবুজ ও জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৭ লাখ জাল টাকার নোট উদ্ধার করা হয়। 

পরে তাদের দেয়া তথ্যে নগরীর চকবাজারের ইসলামবাগে একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতার করা হয় জাল টাকার কারিগর বাবুল ওরফে বাবুকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের জাল নোট। উদ্ধার করা হয় জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম।
 
তিনি আরো বলনে, মূলত ঈদকে সামনে রখে চক্রটি জাল টাকা তৈরি করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে, তৈরি করা এসব জাল নোট ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। 

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাল টাকার কারবারি বা কারিগররা কাল্পনিক জগতের ড্রাগন হেডেড। ড্রাগনের যেমন এক মাথা কেটে নিলে আরেকটি গজায়। তেমনি জালিয়াত-প্রতারক চক্রের একটিকে আইনের আওতায় আনলে, অন্যটি সৃষ্টি হয়। 

এর কারণ হিসেবে আটক জাল টাকার ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে গোয়েন্দারা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব প্রতারণা ব্যবসায় একই পরিবারের সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে কাজ করে। জাল টাকার কারিগর একজন, তাদের স্বামী, ভাই বা অন্য কোনো স্বজন ধরা পড়লে পরিবারের ভরণপোষণ ও মামলা চালাতে ওই পরিবারেরই আরেকজন ব্যবসার হাল ধরে। 

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতে আরো দুটি কারণে জাল টাকার কারবারে আগ্রহ বেশি অপরাধীদের। প্রথমত, দ্রুত ধনী হওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, বিবেক বর্জিত ও যাদের কোনো ধরনের অনুশোচনা নেই তারাই জাল টাকা তৈরি করে অর্থনীতির ক্ষতি করে। এসব কালো বাজারির কারণে প্রতারণার শিকার অনেকের উৎসবের আনন্দ কান্নায় পরিণত হয়।

বাংলাদেশে প্রথম জাল টাকা তৈরির নিপুণ কারিগর জামান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হাতে আটক হয়। এতই সুক্ষভাবে সে কাজ করত যে, সহজে ধরা যেত না আসল-নকল। এক সময় তার যারা শিষ্য ছিল এমন ৮ জন বর্তমানে জাল টাকার বড় কারবারি। তারা হলো-ছগীর, হুমায়ূন, হামিদ, রাশিদুল, কাওছার, জাকির, আ. হামিদ ও সেলিম। 

অপরদিকে এদের কাছে কাজ শিখে জাল টাকার ব্যবসা করছে-লিয়াকত,পলাশ, সিরাজুল ইসলাম, জাকির, ইমন-সুমন গ্রুপ ও কামালসহ অন্যরা।

তবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধরা পড়ার পরও আইনি দুর্বলতায় জামিনে বেরিয়ে আসে তারা। বের হয়ে আবারো জড়িয়ে পড়ে একই অপরাধে। তাদের সিন্ডিকেটে রয়েছে বেশ কিছু অসাধু আইনজীবীও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অনেক চেষ্টা করে এসব দুর্বৃত্তকে আইনের আওতায় আনে। কিন্তু সিন্ডিকেট আইনজীবীরা আইনের ফাঁক-ফোঁকড় ব্যবহার করে তাদের জামিনে বের করে আনে। 

দেশে প্রথম দিকে জাল টাকা তৈরি ও বাজারজাত করার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। পরে তা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান করা হয়।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লার ধ্বনি
এই বিভাগের আরো খবর