ব্রেকিং:
বিয়ের দিন বাড়িতে হাজির প্রথম স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ৫০ থেকে একশ শয্যায় উন্নীত হবে সব হাসপাতাল সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ২ রাজমিস্ত্রির মজুতদারি করে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা ইঞ্জিনে ওভার হিট, মহাখালীতে প্রাইভেটকারে আগুন ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ফিরে পেলেন ট্রাম্প অবশেষে ঝুঁকিপূর্ণ তিন রাস্তার সংযোগস্থলে গতিরোধক স্থাপন বাঙালি বিশ্ব মোড়লদের ধার ধারে না: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী যেসব কারণে ব্যাপক চাপ থাকবে সড়কে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে সরকারের কোটা সংক্রান্ত পরিপত্র বলবৎ হয়েছে পানি নিষ্কাশনে ডিএনসিসির ৫ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করছে সময় টিভির সাংবাদিকদের উপর কোটা বিরোধীদের হামলা প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গাজায় ‘যুদ্ধাবসানের সময় এসেছে’: বাইডেন ন্যাটো-রাশিয়াকে সংঘাতের ব্যাপারে সতর্ক করলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রাজধানীসহ সারাদেশে ভারী বৃষ্টি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুতে ইতিবাচক মিয়ানমার চীনা গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর
  • রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

  • || ০৬ মুহররম ১৪৪৬

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান: টার্গেট এনবিআর ও পুলিশ

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৪  

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। এই অভিযানে দুর্নীতি দমন কমিশনকে এখন বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। একের পর এক বিভিন্ন দুর্নীতির কেচ্ছা-কাহিনি ফাঁস হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজের বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোক করছে।

ইতোমধ্যে বেনজীর আহমেদ ছাড়াও মতিউর রহমান, এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা, পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সম্পদ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তার বিদেশ যাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   আর এই প্রেক্ষাপটে এখন প্রশ্ন উঠছে যে, দুর্নীতি দমন অভিযান আসলে কার বিরুদ্ধে হচ্ছে? দুর্নীতি দমন কমিশন এখন পর্যন্ত যে ধরণের উদ্যোগ এবং ব্যবস্থাগুলো নিচ্ছে তাতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান এখন হচ্ছে এনবিআর এবং পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন যে, এখন হঠাৎ করে এই অভিযান হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে এবং এই কাজের প্রেক্ষিতে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে সেই সমস্ত অভিযোগগুলো প্রাথমিক তদন্তের পর যাদের দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তবে এই দুর্নীতি দমন কমিশনের এই অভিযানের প্রেক্ষিতে একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়েছে, তা হল যে- দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এনবিআরের কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তারা। এখন পর্যন্ত এনবিআরের অন্তত সাতজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন বিভিন্ন রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে পুলিশেরও আটজন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে মনে করা হচ্ছে যে, দুর্নীতি দমন বিরোধী অভিযানের প্রধান টার্গেট হল এনবিআর ও পুলিশ।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশন এই ধরনের বক্তব্যকে অস্বীকার করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বলছে যে, পুলিশ বা এনবিআর নয় বরং যারা দুর্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে দুদকের সাম্প্রতিক তৎপরতায় পুলিশ এবং এনবিআরের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। প্রায় দুইশ এনবিআরের কর্মকর্তা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের জালে রয়েছেন, এমন খবর এখন এনবিআরের কর্মকর্তাদেরকে আতঙ্কিত করেছে। অনেক কর্মকর্তাই এখন নানা রকম দেন দরবার করছেন। অনেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নেওয়ার জন্য তদবির করছেন।

এনবিআরের একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, মতিউরের ঘটনা এবং তারপরে একাধিক এনবিআর কর্মকর্তার দুর্নীতি এই পেশার ইমেজ নষ্ট করেছে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে উত্তোরণের জন্য সৎ এবং নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদেরকে সামনে নিয়ে আসা জরুরী বলেও তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে, পুলিশের মধ্যে এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুলিশ প্রধান হিসেবে চৌধুরী আব্দুল্লাহ মামুনের চাকরি নবায়নের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনে এখন নিজেরাই একটি শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে এবং ‍পুলিশ প্রধান তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নতুন করে পাওয়ার পর জানিয়ে দিয়েছেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা। তবে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান হলেও সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাম্প্রতিক তৎপরতা দুদককে একটি ইতিবাচক জায়গায় নিয়ে গেছে।