ব্রেকিং:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের গেটের ডিজাইন নিয়ে সংঘর্ষ, আসামি ৯ শতাধিক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, শ্বশুর বাড়িতে ধরা পড়ল দুই ধর্ষক ডিমের মূল্য তালিকা-ক্রয়ের রশিদ না থাকায় জরিমানা প্রবাসীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, গ্রেফতার ৬ আখাউড়ায় চোরাই মোটরসাইকেলসহ যুবক আটক বাজারে চুরির ঘটনায় ৩ নৈশ প্রহরী গ্রেফতার ‘সাদা কালা’ গানে এবার ঝড় তুললেন নোয়াখালীর ৫ যুবক এক ঘণ্টায় শেষ বাংলাদেশের ম্যাচের সব টিকিট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে ম্যানেজিং কমিটি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না: আইনমন্ত্রী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় জরিমানা গুনলো দুই ফার্মেসি ঝরে পড়া শিশুদের পাঠদানে ফেরাতে প্রশিক্ষণ দম্পতিকে শৌচাগারে আটকে রাখায় আত্মহত্যা চেষ্টা সরকারি ভবনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবহারের নির্দেশনা জারি প্রত্যাবাসন নিরাপদ না হলে আবারো ফেরত আসবে রোহিঙ্গা ৪০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করায় কুমিল্লায় ট্রেন আটকে প্রতিবাদ ইউক্রেন সফরে আসছেন এরদোগান ও গুতেরেস প্রেমের টানে বগুড়ায় এসে ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ২ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার উপায় খোঁজার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

নির্বাচন বর্জন নিয়ে বিএনপির যত টালবাহানা

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২২  

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসছে দ্রুত। সাংবিধানিকভাবে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ২০২৩ সালের শেষ দিকে। কিন্তু এ নির্বাচনে অংশ না-নিতে টালবাহানা করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ভোট থেকে দূরে থাকতে তাদের ওজর-আপত্তির শেষ নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি নেতৃত্বের আস্থাহীনতা ও গণবিরোধী কর্মসূচির কারণে তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি। যে কারণে আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা না-করার অজুহাত খুঁজছে। এ ছাড়া নেতৃত্বসংকটও দলটির নির্বাচনে অনীহার বড় কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নিজেদের ঐতিহ্যগত সহিংসতার পথও বেছে নিতে পারে দলটি। বিভিন্ন সময়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য থেকে এমন আভাসও মিলছে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টার বদলে শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিএনপি নেতারা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন।

আস্থাহীনতায় বিএনপি নেতৃত্ব

বলা বাহুল্য, এতিমদের টাকা আত্মসাতের দায়ে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর দলে নিজের আস্থা ধরে রাখতে পারেননি বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার ছেলে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক জীবনযাপন করছেন। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনায় সহযোগিতা ও শেখ হাসিনাকে গুপ্তহত্যার চেষ্টার দায়ে তাকে সাজা দিয়েছেন আদালত।

লন্ডন থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দল পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা তার ওপর বিরক্ত, তারা তার ঔদ্ধত্য মেনে নিতে পারছেন না। অনেকে মনে করেন, মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে তারেক রহমানের কোনো সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের পরিস্থিতির সঙ্গে তার নেয়া সিদ্ধান্তগুলো খাপ খাচ্ছে না। বাস্তবতাহীন ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বে ভুগছে বিরোধী দলটি।

গেল বছর ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুসারে, বিএনপিতে ‘বিশৃঙ্খলা ও দেউলিয়াত্ব’ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে। তখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জোটের নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব পড়ে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যাওয়া ডা. কামাল হোসেনের ওপর। এই নির্ভরশীলতাই বলে দিয়েছে দলটি কতটা নেতৃত্বশূন্যতায় ভুগছে ও রাজনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শীর্ষ নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দলটিতে অরাজকতা চলছে।

ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও। এ নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়। শেখ হাসিনাকে উৎখাতে ব্যাপক জনসমর্থনের আশায় বিএনপি নির্বাচনী ফল প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় উন্নয়নের গতি বদলে যাওয়ায় তাদের পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

বিএনপির স্ববিরোধিতা

বিএনপির স্ববিরোধিতা প্রকাশ্যে আসে তখন, যখন দলটির শীর্ষ নেতারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করলেও পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকার করেন। সংলাপে আমন্ত্রণ পেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের প্রশংসা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস। কিন্তু তিনি বলেন, সরকারে যদি কোনো পরিবর্তন না-আসে, তবে তারা কোনো সংলাপে অংশ নেবেন না। কিন্তু তারা কেন নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন, সেই ব্যাখ্যা দেননি।

আরেক পঁচাত্তরের ন্যক্কারজনক হুমকি

সম্প্রতি বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি জ্বলন্তভাবে সামনে চলে আসে। ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে ‘আরেকটি ১৯৭৫’-এর হুমকি দেন দলটির স্বেচ্ছাসেবী শাখার প্রধান। ১৫ আগস্টের কালরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাবা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

২০২২ সালে এসেও বিএনপির ছাত্রশাখার নেতাকর্মীরা ‘পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। নির্বাচনে না গিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের ভয়ংকর আভাস দিচ্ছে এই আরেকটি ১৯৭৫-এর হুমকি।

দেশের প্রথম সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ব্যারাকে জন্ম নেয়া দল বিএনপি। সেই কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা দলটির এখনকার নেতাদের মধ্যেও আছে। যে কারণে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় যাওয়ার পরিবর্তে বলপ্রয়োগই তাদের বেশি পছন্দ। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ১৯৭৫-এর পুনরাবৃত্তিরই চেষ্টা ছিল। তারা এক আঘাতেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ধুলোয় মিশিয়ে দিতে চেয়েছে। কাজেই বাবার পায়ের ছাপ ধরেই সামনে এগোতে চেষ্টা করছেন তারেক রহমান। ১৯৭৫ সালের অভ্যুত্থানের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জিয়াউর রহমানের।

উইকিলিকসের ফাঁস করা কূটনৈতিক ক্যাবলে বাংলাদেশের লুটপাটের সরকার ও সহিংস রাজনীতির প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে তারেক রহমানকে। ফাঁস হওয়া ক্যাবল থেকে জানা গেছে, তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পরামর্শ দিয়েছিল ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজা হওয়ার পর দল ও দলের বাইরে তার অবস্থান নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে বিএনপির ছায়ায় থেকে দেশজুড়ে গ্রামেগঞ্জে কমিটি গঠন করে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গেল বছর দুর্গাপূজার সময় সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক সহিংসতার জন্য জামায়াতকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব সত্ত্বেও জামায়াত ছাড়ছে না বিএনপি; বরং যুদ্ধাপরাধীদের দলটিকে সঙ্গে নিয়েই তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন চেয়েছে তারা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে অপব্যবহার হয়েছে। এই সরকার ব্যবস্থার কারণেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস মারাত্মকভাবে কলঙ্কিত হয়েছে। যে কারণে অনির্বাচিত এই সরকার ব্যবস্থা আর ফিরিয়ে আনতে চায়নি আওয়ামী লীগ। নির্বাচন দেয়ার মাধ্যমে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বদলে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার মতো কুখ্যাত রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে।

অর্থাৎ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে তারা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দিতে চেয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেখানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলের নেতাদের টার্গেট বানিয়েছিল, সেখানে বিএনপি কেন সেই ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, সেই ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি। বিএনপির সিদ্ধান্তকে অনেকেই গুরুতর ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের মিত্রতা

মিত্র জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েই বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের সময় বেসামরিক বাঙালির ওপর ভয়াবহ নৃশংসতা চালানোর দায়ে জামায়াত নেতারা যুদ্ধাপরাধের কাঠগড়ায় ছিলেন তখন। কিন্তু ভোট বর্জনের পরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর সহিংস হামলায় মেতে ওঠে বিএনপি। যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলা চালিয়ে তারা বহু মানুষকে হতাহত করেছে। তারা এমন একসময় এই অপরাধ করেছে, যখন জাতিসংঘের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ও সহায়তায় দেশজুড়ে সহিংসতা চালিয়েও সফল হতে পারেনি বিএনপি। ২০১৪ সালের দিকে বলা হতো—খালেদা জিয়া কর্মসূচি ঘোষণা করছেন, আর তা বাস্তবায়ন করছে জামায়াত-শিবির। নিতান্তই পেটের দায়ে বাস-ট্রাক নিয়ে পথে নামা লোকজনকে পেট্রলবোমা ছুড়ে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মেরেছেন জামায়াত-বিএনপির কর্মীরা।

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার কার্যক্রম বানচাল করতে জামায়াত একা যে সন্ত্রাস শুরু করেছিল দেশে, নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি আদায় করতে গিয়ে বিএনপি তাতেই যোগ দেয়। তারা স্বতন্ত্র কোনো আন্দোলন গড়ে তোলেনি। তাদের আন্দোলনের নামে নাশকতা অতীতের সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। তৈরি হয় নতুন নতুন রেকর্ড। অথচ এতে কোনো জনসম্পৃক্ততা ছিল না; দলের সাধারণ নেতাকর্মীও তাতে অংশ নেননি।

এমনকি ২০১৭ সালে কানাডীয় এক আদালতের রায়ে সহিংস তৎপরতার দায়ে বিএনপির সঙ্গে সন্ত্রাসী তকমা জুড়ে দেয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে ভুলের চূড়ায় পৌঁছায় বিএনপি। তখন জালিয়াতির অভিযোগ তুলে শেষ মুহূর্তে এসে তারা নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে।

অযৌক্তিক ইভিএম বিরোধিতা

আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের আভাস দিলে তার বিরোধিতা করে বিএনপি। দলটির নেতারা বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ এখন থেকেই নানা কলাকৌশল ও ফন্দিফিকির শুরু করেছে। এ সরকার পদত্যাগ না করলে নির্বাচনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

কিন্তু আধুনিক বিশ্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটদান ও নিজেদের মতামতের অন্যতম প্রতিফলন ইভিএম। ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় একাধারে যেমন সঠিকভাবে ভোট দেয়া যায়, তেমনি ভোট গোনাও যায় দ্রুত। ইভিএমে ভোটদানে কারচুপির সুযোগ থাকে না। আবার কেউ চাইলেই ভোট শুরুর আগে ভোট দিতে পারবে না। ব্যালট বাক্স নিয়ে দৌড়ে পালালেও কিছু হবে না। যে কারণে ইভিএমে ভোট দেয়া একেবারে নিরাপদ।

ইভিএমে ভোট দিতে গেলে প্রথমে স্মার্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ভোটার নম্বর ও আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের মাধ্যমে ভোটার শনাক্ত করা হয়। তারপর ইলেকট্রনিক ব্যালটে ভোট দেয়ার সুযোগ পান ভোটার। কাজেই এতে জালিয়াতির সুযোগ ন্যূনতম নেই।

উন্নয়ন অস্বীকার

রাজনৈতিক মাঠে সফল হতে না-পারলেও শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বীকৃতি দিতে নারাজ বিএনপি। পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা থেকে তা বাস্তবায়ন—পুরো সময়টিতেই এর বিরোধিতা করে গেছেন দলটির নেতারা। কখনো বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা, কখনো দুর্নীতির অভিযোগ, আবার কখনো সেতুটির পেছনে নিজেদের কৃতিত্বের দাবি তোলার চেষ্টা করেছেন তারা। আবার সেতুতে উঠতে নেতাকর্মীদের সমাবেশে বারণ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এক সমাবেশে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল এমন: ‘পদ্মা সেতু কি হচ্ছে? হচ্ছে না। এ সরকার পদ্মা সেতুও করতে পারল না।’ এর পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি আবারও একই ধরনের মন্তব্য তার। আবারও কটাক্ষ করে বলেন, ‘পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে আর হবে না। আর যদি সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানায়, সেই সেতুতে কেউ উঠতে যাবেন না। অনেক রিস্ক আছে।’
 

পিছিয়ে ছিলেন না দলের অন্য নেতারাও। সুর মেলাতে থাকেন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমর্থনে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ‘টিকবে না পদ্মা সেতু।’ ১১ জানুয়ারি তিনি বলেন, ‘একটা ভ্রান্ত ও ভুল ডিজাইনের ওপর পদ্মা সেতু নির্মিত হলে সেটা যে টিকবে না, সেটা তো উনি (খালেদা জিয়া) ভুল বলেননি। এটা সত্য প্রমাণিত হয়েছে যে, পদ্মা সেতু রং (ভুল) ডিজাইনের ওপর নির্মিত হচ্ছে।’ কিন্তু তাদের সব সন্দেহ উড়িয়ে দিয়ে পদ্মার বুকজুড়ে সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ্য সেতুটি।

এক দশক ধরে ভুলে ভুলে জনগণের ওপর থেকে প্রভাব খুইয়েছে বিএনপি। বিএনপি এখন রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেয়ার মতো আত্মবিশ্বাসও তাদের নেই। আর দলটির পতন ত্বরান্বিত করেছে অন্তর্কোন্দল। গেল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় দুই বিএনপি নেতাকে বরখাস্ত করা হয়। দলীয় ভোট বিভক্ত হয়ে পড়ায় তারা নির্বাচনে হেরে যান।

সক্ষমতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও মানব উন্নয়নে গেল এক দশকে আওয়ামী লীগ যে সক্ষমতা দেখিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ চালকের আসনে। কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও জনগণের মধ্যে শেখ হাসিনার যে ভাবমূর্তি রয়েছে, আওয়ামী লীগ তা ভালোভাবেই কাজে লাগতে পারবে।

শেষ সম্বল হিসেবে পশ্চিমা কূটনীতিকদের সহানুভূতি কুড়াতে চেষ্টা করতে পারে বিএনপি। শ্রীলঙ্কা কিংবা আফগানিস্তান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা মানবাধিকারের ধুয়া তুলতে পারে, কিন্তু নিজেদের দেউলিয়াত্ব ও আস্থাহীনতায় তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থতার রেকর্ড গড়বে।