ব্রেকিং:
৪৩০০ পুকুরে সরকারি খরচে মাছ চাষের উদ্যোগ ফেসবুকের পাসওয়ার্ড ও তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে যে ২৫ অ্যাপ ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে হবে’ ‘ত্রাণচোর ও অপরাধী ধরা হচ্ছে, বিএনপির নেতা-কর্মীকে নয়’ গড় বিল করতে গিয়ে ভুল হয়েছে: বিদ্যুৎ সচিব বিএনপি উন্নয়নেও নেই, দুর্দিনেও নেই ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম পরিবর্তন করতে হবে’ দেশে একদিনে আরো ৫৫ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৭৩৮ ‘মাধ্যমিকে সাইন্স, আর্টস, কমার্স নামে বিভাজন থাকবে না’ আগামী সাড়ে তিন বছরে ফরিদগঞ্জের কোনো কাজই বাকি থাকবে না `প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা` তালিকা নিয়ে আইনমন্ত্রীর ক্ষোভ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ শয্যার সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ চাঁদপুরে নতুন ৩২ জনের করোনা পজিটিভ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ১১৭৮ কুমিল্লায় আরো ৮৬ জন করোনায় আক্রান্ত চামড়াশিল্প রক্ষায় আসছে একগুচ্ছ প্রণোদনা সবাই মাস্ক পরলে ৯০ ভাগ করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব জমির রেজিস্ট্রেশন ফি কমল ত্রাণ পেয়েছে ৭ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ কোভিড-১৯ চিকিৎসা শুরু করছে বিএসএমএমইউ
  • রোববার   ০৫ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

৫০৪

পাঠাগার আছে,পাঠক কই?

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৯  

শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত কুমিল্লার পাঠাগারগুলো এখন পাঠক শূন্যতায় ধুঁকছে। এক সময় এসব পাঠাগারে চেয়ার ফাঁকা হওয়ার অপেক্ষায় থাকতো পাঠকরা। এখন চেয়ারগুলোই পাঠকের আশায় থাকে।

জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের প্রধান মো. কামরুল হাসান জানান, এক সময় তরুণরাই বেশি বই পড়তো। এখন তারুণ্য মিশে গেছে আকাশ সংস্কৃতি। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসক্তির কারণে তরুণদের মধ্যে বই বিমুখতা দেখা দিয়েছে। এ কারণেই পাঠাগারগুলো দিনদিন পাঠক হারাচ্ছে।

কুমিল্লার অতি প্রাচীন রামমালা গ্রন্থাগার প্রায় বন্ধের পথে। ১৯১৯ সালে মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য এ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে সংস্কৃত, বাংলা, জ্যোতির্বিদ্যা, আয়ুর্বেদ, চিকিৎসাশাস্ত্রসহ ২০ হাজারের বেশি দুষ্পাপ্য বই রয়েছে।

লেখক ও গবেষক সাইমন জাকারিয়া জানান, বাংলা একাডেমি-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও এত প্রাচীন বইয়ের সংগ্রহ নেই। তবে এরই মধ্যে অনেক বই নষ্ট হয়ে গেছে। সঠিকভাবে যত্ন না নিলে গ্রন্থাগারটি ঐতিহ্য হারাবে।

বীরচন্দ্র নগর গণপাঠাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মাকসুদুর রহমান জানান, এখানে পত্রিকার গড় পাঠক পাঁচশ জন। কিন্তু বইয়ের গড় পাঠক পাঁচজন। এখন আর নতুন পাঠক তৈরি হচ্ছে না।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, কুমিল্লা শহরের ৩৪টি স্পটে মাসে ১০ টাকা চাঁদায় গড় পাঠক হয় ৭০-৮০ জন। অথচ সদস্য সংখ্যা পাঁচ হাজার বেশি।

 কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রীয় পাঠাগারে ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য ১০ হাজারের বেশি বই, দেশি-বিদেশি পত্রিকা ও ম্যাগাজিন রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন পাঠক সংখ্যা ৮০-১০০ জনের বেশি হয় না
কুমেক অধ্যক্ষ ডা. মো. মহসিন-উজ-জামান চৌধুরী জানান, আমাদের পাঠাগারে অত্যাধুনিক সব সুবিধা রয়েছে। পাঠকদের জন উচ্চগতির ইন্টারনেট দেয়া হয়েছে। তবুও পাঠক কম হচ্ছে।

কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি, ডিসি অফিস, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঠাগার রয়েছে। কিন্তু এসব পাঠাগারেও পাঠক দেখা যায় না।

তরুণ লেখক সীমান্ত আকরাম জানান, ইন্টারনেট আর ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসক্তির কারণে পাঠাগারগুলোতে তরুণ পাঠকদের সংখ্যা দিনদিন কমছে। পাঠক আকৃষ্ট হবেন এমন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হলে আবারো বইপ্রেমী বাড়বে।

আরেক লেখক ফাহিম সব্যসাচী জানান, পাঠকদের বইমুখো করতে পাঠাগারে ওয়াইফাই সুবিধা রাখা যেতে পারে, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হতে হবে, পাঠকদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে, গ্রুপ স্টাডির জন্য পৃথক কক্ষ রাখতে হবে। কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে।

তরুণদের বই পড়ায় আগ্রহী করতে কাজ করছে ফেসবুক গ্রুপ ‘কুমিল্লার বই পোকাদের আড্ডা’। এ গ্রুপের অন্যতম উদ্যোক্তা তুহিন মাজহার জানান, বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বইয়ের দাম হাতের নাগালে রাখতে হবে। পঠন ক্যাম্পেইন, কুইজ প্রতিযোগিতা, পাঠক আড্ডার ব্যবস্থা করতে পারলে পাঠাগারগুলোতে পাঠক বাড়বে।

আধ্যাপক আবুল খায়ের টিটু বলেন, লন্ডনে দেখেছি ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার পর পাঠাগারগুলো যুগোপযোগী করা হয়েছে। আমাদের দেশের পাঠাগারগুলো সেদিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে।

চৌদ্দগ্রামের মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহেরা আক্তার বলেন, বর্তমান প্রজন্ম কেন যেন বই পড়তে চায় না। বইয়ের চেয়ে তারা ইন্তারনেটে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। প্রযুক্তি আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। আবার তরুণদের খেলার মাঠ, বই থেকে দূরেও নিয়ে গেছে। সমসাময়িক পদক্ষেপ নেয়া হলে এ অবস্থা ঘুরে দাঁড়াবে।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর