ব্রেকিং:
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিবহন ধর্মঘট,পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা! কয়েদি পোষাকে ফাঁসির অপেক্ষায় দিন গুণছেন সিরাজউদ্দৌলা দুর্ধর্ষ চোর ইসমাইল গ্রেফতার তিন ফার্মেসীকে জরিমানা মেকআপ এন্ড নেইল আর্ট বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা চাঁদা না পেয়ে ব্রিকফিল্ড ম্যানেজারকে পিটিয়ে আহত অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে তাহসিন পেট্রোল বোমা মামলায় মালামাল ক্রোকের আদেশ পেছাল শক্তিশালী দল গড়েছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ চিকিৎসকের জীবন বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন ১০ লাখ টাকার সেগুন কাঠ আটক আবর্জনার স্তূপে ৭০ বস্তা পেঁয়াজ! সাজেকে চান্দের গাড়ির ভাড়া নির্ধারণ দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার বেড়েছে ডলারের দাম ফোনের স্টোরেজ বাড়াবেন যেভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য নেদারল্যান্ডের ৩৯ লাখ পাউন্ড অনুদান ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম কাঁচা মরিচ! র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে হাইকোর্টে তলব

বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

কুমিল্লার ধ্বনি
৪৪২

পাঠাগার আছে,পাঠক কই?

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৯  

শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত কুমিল্লার পাঠাগারগুলো এখন পাঠক শূন্যতায় ধুঁকছে। এক সময় এসব পাঠাগারে চেয়ার ফাঁকা হওয়ার অপেক্ষায় থাকতো পাঠকরা। এখন চেয়ারগুলোই পাঠকের আশায় থাকে।

জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের প্রধান মো. কামরুল হাসান জানান, এক সময় তরুণরাই বেশি বই পড়তো। এখন তারুণ্য মিশে গেছে আকাশ সংস্কৃতি। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসক্তির কারণে তরুণদের মধ্যে বই বিমুখতা দেখা দিয়েছে। এ কারণেই পাঠাগারগুলো দিনদিন পাঠক হারাচ্ছে।

কুমিল্লার অতি প্রাচীন রামমালা গ্রন্থাগার প্রায় বন্ধের পথে। ১৯১৯ সালে মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য এ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে সংস্কৃত, বাংলা, জ্যোতির্বিদ্যা, আয়ুর্বেদ, চিকিৎসাশাস্ত্রসহ ২০ হাজারের বেশি দুষ্পাপ্য বই রয়েছে।

লেখক ও গবেষক সাইমন জাকারিয়া জানান, বাংলা একাডেমি-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও এত প্রাচীন বইয়ের সংগ্রহ নেই। তবে এরই মধ্যে অনেক বই নষ্ট হয়ে গেছে। সঠিকভাবে যত্ন না নিলে গ্রন্থাগারটি ঐতিহ্য হারাবে।

বীরচন্দ্র নগর গণপাঠাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মাকসুদুর রহমান জানান, এখানে পত্রিকার গড় পাঠক পাঁচশ জন। কিন্তু বইয়ের গড় পাঠক পাঁচজন। এখন আর নতুন পাঠক তৈরি হচ্ছে না।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, কুমিল্লা শহরের ৩৪টি স্পটে মাসে ১০ টাকা চাঁদায় গড় পাঠক হয় ৭০-৮০ জন। অথচ সদস্য সংখ্যা পাঁচ হাজার বেশি।

 কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রীয় পাঠাগারে ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য ১০ হাজারের বেশি বই, দেশি-বিদেশি পত্রিকা ও ম্যাগাজিন রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন পাঠক সংখ্যা ৮০-১০০ জনের বেশি হয় না
কুমেক অধ্যক্ষ ডা. মো. মহসিন-উজ-জামান চৌধুরী জানান, আমাদের পাঠাগারে অত্যাধুনিক সব সুবিধা রয়েছে। পাঠকদের জন উচ্চগতির ইন্টারনেট দেয়া হয়েছে। তবুও পাঠক কম হচ্ছে।

কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি, ডিসি অফিস, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঠাগার রয়েছে। কিন্তু এসব পাঠাগারেও পাঠক দেখা যায় না।

তরুণ লেখক সীমান্ত আকরাম জানান, ইন্টারনেট আর ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসক্তির কারণে পাঠাগারগুলোতে তরুণ পাঠকদের সংখ্যা দিনদিন কমছে। পাঠক আকৃষ্ট হবেন এমন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হলে আবারো বইপ্রেমী বাড়বে।

আরেক লেখক ফাহিম সব্যসাচী জানান, পাঠকদের বইমুখো করতে পাঠাগারে ওয়াইফাই সুবিধা রাখা যেতে পারে, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হতে হবে, পাঠকদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে, গ্রুপ স্টাডির জন্য পৃথক কক্ষ রাখতে হবে। কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে।

তরুণদের বই পড়ায় আগ্রহী করতে কাজ করছে ফেসবুক গ্রুপ ‘কুমিল্লার বই পোকাদের আড্ডা’। এ গ্রুপের অন্যতম উদ্যোক্তা তুহিন মাজহার জানান, বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বইয়ের দাম হাতের নাগালে রাখতে হবে। পঠন ক্যাম্পেইন, কুইজ প্রতিযোগিতা, পাঠক আড্ডার ব্যবস্থা করতে পারলে পাঠাগারগুলোতে পাঠক বাড়বে।

আধ্যাপক আবুল খায়ের টিটু বলেন, লন্ডনে দেখেছি ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার পর পাঠাগারগুলো যুগোপযোগী করা হয়েছে। আমাদের দেশের পাঠাগারগুলো সেদিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে।

চৌদ্দগ্রামের মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহেরা আক্তার বলেন, বর্তমান প্রজন্ম কেন যেন বই পড়তে চায় না। বইয়ের চেয়ে তারা ইন্তারনেটে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। প্রযুক্তি আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। আবার তরুণদের খেলার মাঠ, বই থেকে দূরেও নিয়ে গেছে। সমসাময়িক পদক্ষেপ নেয়া হলে এ অবস্থা ঘুরে দাঁড়াবে।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লার ধ্বনি
এই বিভাগের আরো খবর