ব্রেকিং:
আওয়ামী লীগই জনগণের পাশে থাকে, এটাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য - ওবায়দুল পাশে উঁচু জায়গা রেখে পরিকল্পিতভাবে পানিতে ঈদের নামাজ ৯ জুন পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ালো এনবিআর লোহাগড়ায় ঈদ উপহার পাঠালেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া নতুন ১৫২ সদস্যসহ পুলিশে করোনা আক্রান্ত চার হাজার ছাড়াল প্লাজমা দিতে চান এই চিকিৎসক দম্পতি হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের বিরিয়ানি খাওয়ালেন আ’লীগ নেতা অনির্দিষ্টকাল জনগণের আয়ের পথ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী নজরুলের গান আবৃত্তি করে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেল দুই শতাধিক পথশিশু ‘করোনার শুরু থেকেই ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা’ মোবাইল অ্যাপ ও হটলাইনে সাংসদ আসলামুল হকের অভিনব খাদ্য সহায়তা জাতীয় কবির ১২১তম জন্মদিন আজ বাঙ্গালির ঈদ উৎসবে ‘রমজানের ওই রোজার শেষে’র আগমন কিভাবে? দেশবাসীকে আওয়ামী লীগের ঈদ শুভেচ্ছা করোনাকালের ৫৬ দিনে ৩ লাখ ১৯ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ২৮০ ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়াকে ঈদ সামগ্রী প্রদান করেছে বন্ধু দুর্দিনে বারো হাজার মানুষকে খাদ্য সামগ্রী দিলো এসএসসি ২০০০ ব্যাচ আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত ৬হাজার পরিবারকে ৩কোটি টাকা সহায়তাদেবে ব্র্যাক
  • বুধবার   ২৭ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

২১৫

পিলখানা হত্যা দিবস আজ

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

আবার ফিরে এলো শোকাবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি। পূর্ণ হলো পিলখানা বিদ্রোহ আর হত্যাযজ্ঞের ১১ বছর। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় দিন। আজ কান্নায় ভারি হয়ে উঠবে সেই সব পরিবার যারা হারিয়েছে স্বামী, সন্তান। দেশ হারিয়েছে স্বর্ণ সেনাদের যারা এক এক জন ছিলেন দেশের সম্পদ।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানরা (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

২০০৯ সাল এই দিনে বাংলাদেশ রাইফেলস বা তৎকালীন বিডিআরের জওয়ানরা (বর্তমানে বিজিবি) সশস্ত্র বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করে। নৃশংস এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো দেশ। আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে বিশ্ব জুড়ে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। বুধবার সকাল ৯টা ২৭ মিনিট। পিলখানার ভেতর থেকে ভেসে আসে গুলি বর্ষনের শব্দ।  প্রথমে সেখানে বসবাস করা অনেকেই ভেবেছিলেন নিয়মিত মহড়া। কিন্ত ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই জানা যায় বিদ্রোহের ঘটনা। এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক।

সেদিন বর্তমান বিজিবি সদর দফতরে ছিল বার্ষিক দরবার। দরবার চলাকালীন একদল বিদ্রোহী সৈনিক ঢুকে পড়ে। এদের একজন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুখে লাল কাপড় বেঁধে, বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে জওয়ানরা ছড়িয়ে পড়ে পুরো পিলখানায়। তারা সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। চারটি প্রবেশ গেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশেপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকে বিদ্রোহী সৈনিকরা। তাদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকে মেধাবী সেনা কর্মকর্তারা।

সেইদিন সকাল পৌনে ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর প্রথম আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার বা এপিসি পৌঁছায় ধানমন্ডিতে। বিকেলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীসহ দুইজন সংসদ সদস্য শান্তির পতাকা নিয়ে পিলখানায় ঢোকেন। বিদ্রোহী সদস্যরা তাদের দাবির কথা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যান। চলে বৈঠক। রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র সমর্পন করে কিছু সদস্য। জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়ে আসেন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। পরদিন রাতে রেডিও-টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে বিদ্রোহের পথ থেকে সরে আসার জন্য বিদ্রোহী সদস্যদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিদ্রোহী জওয়ানেরা অস্ত্র সমর্পণে সাড়া দেয়ার পর ২৭শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পিলখানার ভেতরে ঢোকে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাসহ অন্যদের মরদেহ। পাওয়া যায় গণকবর। একটি রক্তাক্ত অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় শ্বাসরুদ্ধকর তিনটি দিন।

এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, ১ জন সৈনিক, দুই জন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ জন বিডিআর সদস্য ও পাঁচ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়। পিলখানায় এ  বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়।

বিডিআরের নাম, পোষাক, লগো, সাংগঠনিক কাঠামো, পদোন্নতি ইত্যাদি ব্যাপারে পুনর্গঠন করা হয়। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরিবর্তন করা হয় বিডিআর বিদ্রোহের আইন। বর্ডার গার্ড আইনে বিদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা রাখা হয় মৃত্যুদণ্ড। বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।

সরকার বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাটিকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

মঙ্গলবার বিকেলে বাদ আছর সাড়ে ৪টায় শহীদ ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে পিলখানা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতরসহ সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় খতমে কোরআন, বিজিবি’র সব মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

কুমিল্লার ধ্বনি
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর