ব্রেকিং:
আলোর মুখে আনিসুল হকের যানজট নিরসনের দুই প্রকল্প এলেঙ্গায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কারখানা করবে বিপিসি প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ পেয়ে সচল ২৫৪৯ শিল্প রোগী পরিবহণে শুরু হচ্ছে পলস্নী অ্যাম্বুলেন্স সাগরে লঘুচাপ, বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা কম খরচে যাতায়াতের জন্য সরকার দেশব্যাপী রেল নেটওয়ার্ক স্থাপন করছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা শুরু ১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু ফায়ার একাডেমি’ সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী যেসব হাসপাতালে ভর্তি ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: ডিএনএ প্রতিবেদনে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানছি না, বেপরোয়া হয়ে চলছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী যাবজ্জীবন মানে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত কারাদণ্ড: আপিল বিভাগ রেল যোগাযোগ আরো সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার মূর্তি ও ভাস্কর্যের তফাত নিয়ে চান্দিনায় মানববন্ধন লাকসামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন অর্থমন্ত্রী হতাশাকে পুঁজি করেই পুরোদমে স্বাবলম্বী কুমিল্লার মেয়ে শামস রং তুলি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নারী নেতৃত্ব বিষয়ক কর্মশালা ঢাকাস্থ কুমিল্লার বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে এমপি বাহারের বৈঠক মতলবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পারিবারিক পুষ্টি বাগান
  • সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৭

  • || ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

২৩

ফেলে যাওয়া কার্টুনে মিলল ৩ বোমা সাদৃশ্য বস্তু, দুটির বিস্ফোরণ

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২০  

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অজ্ঞাত ব্যক্তির ফেলে যাওয়া কার্টুন থেকে ৩টি বোমা সাদৃশ্য বস্তুর মধ্যে পর পর ২টি বিস্ফোরণ ঘটেছে, ওই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বিহারমন্ডল বাজারের পল্লী চিকিৎসক সত্যরঞ্জন নাহার বন্ধ ফার্মেসির সামনে।

ঘটনার পর পর সংবাদ পেয়ে দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল এএসপি আমিরুল ইসলাম, দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেস্টুনিতে ঘিরে রাখেন। এ সময় সর্ব সাধারণকে ওই এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় দল এসে পর্যবেক্ষণ করে এবং পরে পরিত্যক্ত বোমা সাদৃশ্য বস্তুটি উদ্ধারসহ বিস্ফোরিত বোমা সাদৃশ্য বস্তুটির ধাতবদ্রব্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেন। 

সোমবার সকাল সোয়া ৯টায় ঢাকা পুলিশের হেড কোয়াটার থেকে অ্যাডিশনাল এসপি মো. নূরে আলম ও অ্যান্টি টেরিরিজমের এএসপি মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করেন। এ সময় বিহারমন্ডল বাজারের বিস্ফোরিত ঘটনাস্থলের পল্লী চিকিৎসক সত্যরঞ্জন নাহা’র বক্তব্য গ্রহণসহ স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলেন।

বিহারমন্ডল বাজারের পাশের বাড়ির নেপাল চন্দ্র দত্ত বলেন, রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে আমি আমার ঘরে খাবার খাচ্ছিলাম, এ সময় একটি বোমার মতো বিকট শব্দ পেয়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে বাজারের দিকে আসছিলাম, বাজারে ঢোকার পরই আরো একটি বিস্ফোরণ হলে আমি দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি, কিছুক্ষণ পর আরো লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিস্ফোরণস্থলে যাই, দূর থেকে দেখি একটি ছোট কার্টুন পড়ে আছে, তার পাশে আরো একটি বোমা সাদৃশ্য কালো স্কচটেপ পরিবেষ্টিত মাঝারি সাইজের অবিস্ফোরিত বস্তুটি ইলেকট্রিক তার জড়ানো দেখি, তখন আমরা আর সামনে এগিয়ে যাইনি। পরে পুলিশকে খবর দেই, পুলিশ এসে বিস্ফোরিত পুরো এলাকাটি লাল ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুমিল্লা ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাত পৌনে ৩টায় কুমিল্লা এবং ঢাকা থেকে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় দল আসেন।

সোমবার সকালে ওই এলাকায় সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরো এলাকাটি সংখ্যালঘু হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারা, কি কারণে বা কি উদ্দেশ্যে এসব বস্তু এখানে ফেলে গেছে? এসব বিষয়েও তারা আতঙ্কিত। এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে গত রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে বলেও স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে বোমা নিষ্ক্রিয় দলের আলাপ আলোচনার বরাত দিয়ে জানান, বোমা সাদৃশ্য অবিস্ফোরিত বস্তুটির বিস্ফোরণ হলে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এসব বোমা দেশীয় সরঞ্জাম যেমন মিনি গ্যাস সিলিন্ডার, বারুদ, পেট্রোলের সমন্বয়ে তৈরি হয়, ঠিক সেরকমই ছিল।

দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল এএসপি আরিুল ইসলামের সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণকারী দল, পিবিআই ও পুলিশের হেড কোয়াটার থেকে আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন।

বিশেষজ্ঞদল এসব আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এগুলো ককটেল বা বোমা বা অন্য কিছু হলে তার মতামত পাওয়ার পরই আমরা বলতে পারব এগুলো কি ছিল, বা কারা, কেন কি কারণে কিভাবে এখানে আসল। তদন্তের পূর্বে এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এ ঘটনায় জিডি হবে, তদন্তের পর মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর