ব্রেকিং:
দীর্ঘ দিনের জন্য রেকর্ড হচ্ছে টেলিভিশন ক্লাস করোনার মৃত্যু নিয়ে ইতালির চিকিৎসকের মর্মস্পর্শী বার্তা দেশের সব আদালতে দ্বিতীয় দফা ছুটি ‘জ্বর হলে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে’ গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান নতুন ১৩ উপসর্গের কথা জানালেন করোনামুক্ত নারী সাংবাদিক এক জাতি আজীবন কোয়ারেন্টাইনেই রয়ে গেছে! তিন হাজার হাজতিকে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করোনায় কেয়ামতের আলামত! ‘মিশন এক্সট্রিম’র পর আসছে সানী সানোয়ার ‘চোরের গ্রাম’ ইরাকে মার্কিন বাহিনীর তৎপরতা সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন: ইরান আজ থেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে করোনা মোকাবিলায় জনগণের পাশে নেই বিএনপি বজ্রবৃষ্টি হতে পারে: আবহাওয়া অফিস অধিক মানুষ মহামারীতে মারা গেলে কবর দেয়াই উত্তম: ডব্লিউএইচও পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান স্থগিত ‘স‌্যালুট’ নিয়ে মিথ‌্যাচার করছেন মহাদুর্নীতিবাজ শামসুল আলম! অর্ধশত পরিবারে খাবার সামগ্রী পৌঁছে দিলো অন্বেষণ করোনা প্রতিরোধে ঝুঁকি নিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছে পুলিশ দাউদকান্দিতে স্যানিটাইজার, স্যাভলন ও হ্যান্ড ওয়াশ উধাও ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগে মাস্ক ও খাদ্য বিতরণ
  • বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৮ ১৪২৬

  • || ০৮ শা'বান ১৪৪১

১৪৬৩

বই পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষায় বদল আনছে সরকার

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বিগত বছরগুলোতে চলে আসা শিক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য প্রথম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে পাঠ্যসূচি থেকে শুরু করে বিভাগ বণ্টনেও বদল অনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই কায়দায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বদলে দেয়া হবে পাঠ্যবইও। 

প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় নবম শ্রেণি থেকে শুরু হয় বিভাগ বিভাজন। তবে শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন যে পদ্ধতিটি ভাবা হচ্ছে সেখানে বিভাগ বিভাজন শুরু হবে একাদশ শ্রেণিতে। এর আগে পর্যন্ত একমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হবে শিক্ষার্থীরা। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়তে হবে অভিন্ন ১০টি বিষয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে এখন যে সংখ্যক বই পড়তে হয়, নতুন পদ্ধতিতে সেই সংখ্যাটি কমবে। এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিকে এইচএসসি পরীক্ষা একাদশ ও দ্বাদশ মিলিয়ে দুটি ধাপে নেয়া হবে। এখন কেবলমাত্র কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনেই এভাবে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের পুরো পরিকল্পনাটি সাজাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, এটি একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা। এর খসড়া প্রস্তুত করতে আরো কয়েক মাস সময় লাগবে। আর আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নতুন পদ্ধতিটি বাস্তবায়িত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক কিছু এখনো কেবলমাত্র পরিকল্পনা হয়েই আছে। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে কেমন ফলাফল হতে পারে সেটিও গবেষণা করে দেখা হচ্ছে। এপ্রিল-মে মাস নাগাদ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি খসড়া তৈরি হয়ে যাবে। 

এনসিটিবি’র একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান, জীবন ও জীবিকা, ধর্ম, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি নামের দশটি অভিন্ন বই পড়ানো হবে। এখন যেখানে দশের অধিক বই পড়ানো হয়। নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে মূল্যায়ন করা হবে। আর দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম মেনে আয়োজন করা হবে এসএসসি পরীক্ষা। 

তবে এটি ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা থেকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকে এইচএসসি পরীক্ষা দুই ধাপে নেয়ার পরিকল্পনাটিও ২০২৫ সাল থেকে বাস্তবায়ন হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় শিক্ষার্থী বিভাজন হবে। যেখানে বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এই তিনটি বিষয় সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে। এছাড়া বিভাগভিত্তিক বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা পছন্দ অনুসারে পড়বে। 

বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতিতে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের দুটি পত্রে পড়াশোনা করা হয়। তবে নতুন পরিকল্পনায় এসব বিষয়ে আরো একটি পত্র যোগ করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়পত্রে পড়ানো হবে। 

এদিকে শিক্ষা পদ্ধতি বদলানোর খসড়া প্রণয়নের ফাঁকে ৫৮টি ধারা সংবলিত শিক্ষা আইন-২০২০ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। 
 
নতুন শিক্ষানীতিতে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকের কোচিং-টিউশন এবং নোট-গাইড নিষিদ্ধ করা হবে। তবে চলবে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার। 

প্রস্তাবিত আইনে বিদ্যমান চার স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে- পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক, দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি উচ্চ মাধ্যমিক স্তর। এরপরে শুরু উচ্চশিক্ষা স্তর। মাধ্যমিক শিক্ষার ধারা হবে তিনটি- সাধারণ শিক্ষা, মাদরাসা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। প্রাথমিক স্তরের ক্ষেত্রে কোনো ধারা উল্লেখ নেই। এতে বিদ্যমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণিতে চলমান পরীক্ষা সম্পর্কেও কিছু বলা হয়নি।

এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আইন পাশ হওয়ার আগে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে শিক্ষা পদ্ধতি বদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অনেক দিন থেকেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছি। সেটি কেমন হবে, কি হবে সে ব্যাপারে এখনো কথা বলার সময় হয়নি। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পরিকল্পনার খসড়া হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লার ধ্বনি
শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর