ব্রেকিং:
মুজিববর্ষ উপলক্ষে ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ে ছাই যুবকের স্বপ্ন কৈলাইন হাই স্কুলে গ্রন্থাগারিক নিয়োগে অনিয়ম বার্ডে এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম কুমিল্লায় বিদেশি পিস্তল উদ্ধার বিশ্বে অনাহারের মুখে ২৭ কোটি মানুষ দেশে একদিনে ৩২ মৃত্যু, শনাক্ত দেড় হাজারের বেশি ১২ টাকা কেজিতে তুরস্ক থেকে আসছে কয়েক হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ‘ভাল উদ্যোক্তা হতে প্রয়োজন গভীর আত্মবিশ্বাস’ যেভাবে দেশসেরা আলেম হলেন আল্লামা আহমদ শফী জরুরি অভিযোগ কেন্দ্রের ফোন নম্বর জানালো তিতাস গ্যাস কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে: কাদের অ্যাপের মাধ্যমে ধান কিনবে সরকার প্রবৃদ্ধির আশা দেখাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর মসজিদে বিস্ফোরণ মামলা: তিতাসের বরখাস্ত ৮ কর্মকর্তা গ্রেফতার একদিনেই শনাক্ত ৩ লাখের বেশি, মৃত্যু ৫৪৬৫ চীনে ছড়িয়ে পড়া নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ হাই-টেক পার্কে চার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সুখবর পাচ্ছে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানির সিদ্ধান্ত ভারতের
  • রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৫ ১৪২৭

  • || ০১ সফর ১৪৪২

১৮

বন্ধু যখন প্রতারক

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

প্রতারণার ফাঁদ যেন সহজে না বুঝতে পারে সে জন্য কৌশলে টার্গেট ব্যক্তি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর ফেসবুকে বিদেশি বন্ধু সেজে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নিঃস্ব করে দেয়াই তাদের কাজ। নিজে থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে শুরুতে মেসেঞ্জারে, এরপর সম্পর্ক কিছুটা আবেগে গড়ালেই হোয়াটসঅ্যাপে শুরু হয় তাদের প্রতারণার ফাঁদ। 

প্রতারক চক্র সম্পর্কে সিআইডির দেয়া তথ্য বলছে, এরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কখনো নারী, কখনো পুরুষ, কখনো আফগানিস্তান আবার কখনো সিরিয়ায় আমেরিকান সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছেন বলে পরিচয় দেয়। এসব পরিচয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষকে বন্ধু বানানোর পর উপহার দেয়ার লোভ দেখিয়ে এই চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই চক্রের বেশির ভাগ সদস্য নাইজেরিয়ান। 

আরো পড়ুন>>> পাল্টেছে প্রতারণার কৌশল

বিশ্বস্ততা স্থাপন করে যেভাবে:

এরা ইংরেজিতে কথা বলে বাংলাদেশি বন্ধুর মাঝে বিশ্বাস স্থাপন করে। বুঝাতে চায় সত্যিই এরা বিদেশি বন্ধু। এরপর গিফটের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তা, কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে যে নারী যোগাযোগ করেন, তারা হলো বাংলাদেশি। গিফটের কিছু নমুনা স্বরূপ ছবি কার্টুন বন্দি, গহনা, জুতা, নানা ধরনের কসমেটিক ও কাপড় পাঠায়। 

বিদেশি বন্ধুর প্রতারণার শিকার:

বিদেশি বন্ধুর মাধ্যমে প্রতারণার শিকার খুলনা শহরে বেড়ে উঠা রেশমা আক্তার (২৯)। হঠাৎ ফেসবুকে এক আমেরিকান বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। এক সময় কথা হয় হোয়াটসঅ্যাপে। বন্ধুত্ব আবেগের জায়গায় পৌঁছালেই দেয় বিয়ের প্রস্তাব।

বলে সে আমেরিকান সেনা কর্মকর্তা। তোমার জন্য বেশকিছু গিফট পাঠাতে চাই, যা কিনে রেখেছি। পরে পার্সেল পাঠানোর ঠিকানা নেয়। এরপর বলা হয় সাতদিনের মধ্যে কাস্টমস অফিস থেকে ফোন যাবে। প্রায় কয়েক লাখ টাকার মালামাল রয়েছে। কথা মতো, রেশমার নম্বরে ঢাকা থেকে কাস্টমস অফিসার সেজে কথা বলেন এক নারী। বলা হয়, দুইদিনের মধ্যে পার্সেল না নিলে বিদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এমন বলে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠান রেশমা। এরপরে দুদিন ওই ফোন নম্বরে কথা হলে বলে আরো টাকা লাগবে বিকাশে পাঠাও। তৃতীয় দিনে নম্বর অফ। এভাবেই প্রতারণার শিকার হন রেশমা। আর এভাবেই বিদেশি বন্ধুর কাছ থেকে প্রতারণার কথা তুলে ধরেন প্রতিবেদকের কাছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমন প্রতারণার শিকার শুধু রেশমাই নয়, বাংলাদেশের অনেক মানুষ এই চক্রের ফাঁদে পড়েছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার পুলিশ, সিআইডির অভিযানে ১৬ নাইজেরিয়ানসহ মোট ১৮ জন গ্রেফতার হয়েছেন।

এমনই এক ভুক্তভোগী সাদিকুর রহমান বলেন, ফেসবুকে বন্ধুত্ব হওয়ার পর কয়েক ধাপে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেয়ার পর তার সন্দেহ হয়, তিনি প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন।

ফাঁদে পড়ার গল্পটি তিনি এভাবে বলেন, ফেসবুক আইডিতে ক্যাপ্টেন ন্যান্সি নামে একজন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিল। মানে আমেরিকান আর্মি কর্মকর্তা। বন্ধুত্ব হলে কিছুদিন চ্যাটিং হওয়ার পর সে বলে আমাদের দেশে বেড়াতে আসবে। সে সিরিয়ায় মিশনে আছে। সেখানে মিশন শেষ করে বাংলাদেশে আসবে এবং একটা গিফট পাঠাতে চায়।

সাদিকুর বলেন, এরপর শুরু হয় নানাভাবে টাকা চাওয়ার পালা। প্রথমে গিফট পাঠানোর কথা বলে একটা রিসিট হোয়াটসঅ্যাপে দেয়। সেই রিসিট পাঠানোর একদিন পরে ঢাকা থেকে সালমা আকতার নাম দিয়ে কাস্টমস ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে একটি মেয়ে যোগাযোগ করে। সে বলে, আপনার একটা গিফট এসেছে। এটার জন্য কাস্টম ডিউটি লাগবে ৬৫ হাজার টাকা। এই টাকা দেয়ার পর জানায়, আপনার গিফট বক্সের ভেতরে ডলার পাওয়া গেছে। সেজন্য এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এভাবে তিন কিস্তিতে আমি পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনি এই টাকাগুলো দিয়েছেন বাংলাদেশের কয়েকটি অ্যাকান্টের মাধ্যমে।

তিনি আরো বলেন, এত টাকা দেয়ার পর আবারো টাকা চাইলে সন্দেহ হয়। তিনি গুলশান থানায় একটি জিডি করেন এবং সিআইডি পুলিশকে জানান।

এমন অভিযোগের পর ঢাকার যেসব ফোন নম্বর থেকে কাস্টমস কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে টাকা নেয়া হয়েছে সেগুলোর সূত্র ধরে সিআইডি পুলিশ ১৫ জন নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেফতার করেছে।

অভিযোগ ও প্রতারণা সম্পর্কে সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাইল হায়দার বলেন, ফেসবুক আইডি বা ফেক আইডি ব্যবহার করে তারা আমেরিকা বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব করত। এই শুরুটা হয় একটা হার্মলেস মানে নির্ভেজাল বন্ধুত্ব সম্পর্ক দিয়ে। ট্রাস্ট বিল্ডিংটা হয়, তারপর প্রলোভনের পর্যায়টা আসে। ডলার, স্টোন বা দামি কোনো উপহার দেবে, তার ছবি দেখিয়ে প্রতারণায় ফেলে।

রেজাইল হায়দার বলেন, তারা ফেসবুকে নারী সেজে পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। আমেরিকান সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। আবার নারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করার ক্ষেত্রে তারা পুরুষ পরিচয়েই তা করতেন। বিশ্বস্ততা স্থাপনের জন্য পাঠানো হতো আমেরিকান নারী সেনার ছবি। 

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, বন্ধুত্ব কিছুটা আবেগের জায়গায় পৌঁছালে তারা লোভ দেখিয়ে প্রতারণার জাল ফেলতেন। কখনো আফগানিস্তান, কখনো সিরিয়ায় আমেরিকান সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধে রয়েছেন- এমন সব পরিচয় দিয়ে বানানো বন্ধুদের বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন তারা।

কুমিল্লার ধ্বনি
অপরাধ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর