ব্রেকিং:
যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ সেনাপ্রধানের ৩ শিশুকে যৌন নিপীড়ন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর ঘটনা খাল ভরাট করে সড়ক চায় না কুসিক, মানছে না সওজ চাঁদপুর পালবাজার থেকে ‘প্লাস্টিকের চাল’ উদ্ধার নিয়ে ধুম্রজাল করোনায় কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যানের মৃত্যু ভরাট হয়ে যাচ্ছে ৩০০ বছরের জংলিবিবি পুকুর কমিটি বিহীন চলছে আখাউড়া পৌর যুবদলের কার্যক্রম দেশে একদিনে কমেছে মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়েছে ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ ৬৬ বছরে বাংলা একাডেমি বিজয়ের মাসেই পদ্মা জয়ের স্বপ্নপূরণ বাংলাদেশের ‘শান্তির সংস্কৃতি’রেজুলেশন জাতিসংঘে গৃহীত নকল টিকা নিয়ে ইন্টারপোলের সতর্কতা, বিশ্বব্যাপী শঙ্কা ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম মুক্ত হবে দেশ তৈরি হচ্ছে ৩ লাখ ৭০ হাজার স্লিপার রেমিট্যান্সের প্রণোদনায় শর্ত শিথিল আগামী ডিসেম্বরে রামপালের বিদ্যুৎ করোনা বিপর্যয়ের মধ্যেও দেশে জাপানি বিনিয়োগ পাওনাদী পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিকরা
  • শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৭

  • || ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

১৭৭

বোরোর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২০  

কুমিল্লার লাকসাম অঞ্চলে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। করোনাঝুঁকি, শ্রমিক সংকট ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তারা বিপাকে পড়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রণোদনার সুফল পেতে চান এখানকার কৃষকরা। 

জানা যায়, বৃহত্তর লাকসামের (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট) গ্রামীণ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। চলতি মৌসুমে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। পুরোদমে কৃষকরা বাড়িতে ধান তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিছু জায়গায় ধানকাটা শুরু হয়েছে। তবে এবার দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলায় জেলায় লকডাউনের কারণে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা আসতে না পারায় শ্রমিক সংকটে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

এরই মধ্যে বিরূপ আবহাওয়া কৃষকের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ঝড়, তুফান ও শিলাবৃষ্টি তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর লাকসাম অঞ্চলে (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট) চলতি মৌসুমে ২৯ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে ইরো-বোরো চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন। তার মধ্যে লাকসামে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন, মনোহরগঞ্জে ৯ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে ৪৫ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন এবং নাঙ্গলকোটে ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা থেকেও উৎপাদন বেশি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস প্রত্যাশা করেন।

তিন উপজেলার একাধিক কৃষক বাম্পার ফলনের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ঘরে ফসল তোলার এই সময় আমরা আনন্দে কাটানোর কথা থাকলেও নানা দুশ্চিন্তায় আছি। করোনাঝুঁকি, শ্রমিক সংকট ও বিরূপ আবহাওয়া আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

কৃষি উপকরণ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে ধান উৎপাদন খরচ ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান একাধিক কৃষক। দৈনিক জনপ্রতি কৃষকের মজুরি, খাবারসহ ৭-৮শ টাকা খরচ হচ্ছে যা এক মণ ধানের দামের চেয়েও বেশি। চলমান প্রেক্ষাপটে তারা উৎপাদন খরচে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। সরকারিভাবে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। অন্যথায় তারা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনার সুফল পেতে চান।

লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল হক, মনোহরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন ভৌমিক এবং নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের যে কোনো সমস্যায় আমরা সবসময় পাশে আছি। ধান কাটার জন্য কেউ অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আনতে চাইলে আমাদের জানালে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। লাকসাম ও নাঙ্গলকোটে ভর্তুকি মূল্যে ধান কাটার (কম্বাইন্ড হারভেস্টার) পৃথক দুটি যন্ত্র কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন একটি মেশিনে সর্বোচ্চ ১০ হেক্টর জমির ধান কাটা ও মাড়াই করা সম্ভব হবে। বৃহত্তর লাকসাম অঞ্চলে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর