ব্রেকিং:
নৌকায় লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিহত ১০, জীবিত ৩০ বাংলাদেশি মাস্কের টুইটে উত্তাল ভারতের রাজনীতি চার মাসে বিদেশে চাকরি কমেছে ২০ শতাংশ রাজধানীর বড় বড় হাসপাতাল যেন ‘বাতির নিচে অন্ধকার’ ঈদের দিন যেসব উন্নত খাবার পেলেন কারাবন্দিরা আসুন ত্যাগের মহিমায় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করি হাসিল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বাজারে লঙ্কাকাণ্ড টিনের বেড়ায় বিদ্যুতের তার চাঁদপুরে অর্ধশত গ্রামে ঈদ উদযাপন স্বস্তিতে ঘরমুখো মানুষ যেভাবে গড়ে ওঠে শতবর্ষী কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ বেশি ভাড়া রাখায় উপকূল পরিবহনকে জরিমানা মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ রাখাইনে বড় সংঘাতের আশঙ্কা, বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ একদিনে পদ্মাসেতুর আয় পৌনে ৫ কোটি টাকা চামড়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে র‌্যাবের কঠোর হুঁশিয়ারি ঈদে ট্রেনে মানুষের নির্বিঘ্নে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ খাদ্যসামগ্রী ও দেড় শতাধিক মানুষ নিয়ে জাহাজ গেল সেন্ট মার্টিন কুমিল্লায় বেতন-বোনাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
  • মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৪ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

মনোহরগঞ্জের পাটিয়ালা-বিহড়া শিক্ষা বঞ্চিত শত শত শিশু

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৩  

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের পাটিয়ালা-বিহড়া দু’গ্রামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় আজকের ডিজিটাল যুগে এসে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত কোমলমতি শিশু। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দুরত্ব বেশি হওয়ায় শিশুরা স্কুলে যেতে চায় না বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। ফলে এসব শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকায় পড়েছেন তারা। অথচ এ দু'গ্রামের মানুষের জন্য রয়েছে একটি ভোট কেন্দ্র। ভোটের সময় আসলে অস্থায়ী বুথ বসেন মসজিদের মক্তব ঘরে।


গ্রাম দুটির কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটিয়ালা-বিহড়া গ্রাম দু’টিতে প্রায় এক হাজার পরিবারের বসবাস করে আসছেন। সে অনুযায়ী দু’গ্রামে ৫-১০ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু রয়েছে। এ গ্রাম দু’টি থেকে আশপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুরত্ব ৪-৫ কিলোমিটার হওয়ায় শিশুরা স্কুলে যেতে চায় না। কয়েক দিন গেলেও পরে আস্তে আস্তে পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে আজকের এ ডিজিটাল যুগে এসে শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন শত শত শিশু। এতে করে নিরক্ষরতা ও শিশু শ্রম বেড়েই চলেছে। অপরদিকে এ দু’গ্রামের মানুষের জন্য রয়েছে একটি ভোট কেন্দ্র। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে ইউপি নির্বাচনেও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় একটি মসজিদের মক্তব ঘরে। যা কি না অস্থায়ী কয়েকটি বুথ বানিয়ে ভোট নেয়া হয়। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী৷ এ অবস্থায় তারা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।


পাটিয়ালা গ্রামের মাকসুদুর রহমান বলেন, এ সরকার শিক্ষা ও উন্নয়ন বান্ধব সরকার। আমার মনে হয় সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এমন কোন জায়গায় নেই, এ দু'গ্রাম ছাড়া। এ দু’গ্রামে বিদ্যালয় না থাকায় পার্শ্ববর্তী গ্রামে তিন চার মাইল পায়ে হেঁটে ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে হয়। তাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে ভয়ে থাকতে হয় কখন জানি দুর্ঘটনা খবর আসে। তাই তিনি একটি বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।


বিহড়া গ্রামের প্রবাসী আব্দুল আজিজের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা বলেন, তার এক মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে । মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। তিনি একদিন স্কুলে না গেলে, মেয়েও স্কুলে যাবে না বলে বাড়িতে থাকে। সংসারে অনেক কাজ। কি মেয়ে নিয়ে স্কুলে যাবো, না সংসার কাজ করবো। একটি বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান তিনি।


বয়োবৃদ্ধ নোয়াব আলী বলেন, এ দু'গ্রামের মানুষের জন্য একটি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ভোটের সময় আসলে ভোট হয় মসজিদের মক্তব ঘরে। শত শত ছোট ছোট ছেলে মেয়ে রয়েছে। যারা কি না ৩-৪ মাইল পায়ে হেঁটে পাশের গ্রামের স্কুলে যায়। যার জন্য অনেক ছেলে মেয়ে বিদ্যালয়ে না গিয়ে পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন কাজকর্মে লেগে যায়। সরকারি ভাবে গ্রাম দু’টি নিয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। বিপুলাসার ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি খাতের উন্নয়নে অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যালয় দুরে হওয়ায় কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে এটা দু:খজনক। গ্রাম দু’টি নিয়ে সরকারি ভাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রয়োজন।


উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বিষয়টি অবগত হয়েছি। সরেজমিন পরিদর্শন করে যদি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা পাওয়া যায় তাহলে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সাথে আলোচনা করে সরকারি ভাবে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


 উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাকির হোসেন বলেন, পাটিয়ালা-বিহড়া গ্রাম দু’টিতে অনেক পরিবারের বসবাস হলেও কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকার কারণে অনেক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জায়গা নিয়ে। প্রথমে এক লোক জায়গা দান করে পরে ফেরত নেয়। কেউ জায়গা দিলে এ দু'গ্রামে সরকারিভাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবো।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম কমল বলেন, বিষয়টি জেনেছি। কেউ জায়গা দান করলে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।