ব্রেকিং:
সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর ১ নভেম্বর থেকে ধরা খেয়ে ৫১ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন পুলিশ কর্মকর্তা মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ হলেন শিরিন আক্তার শিলা বিকাশের দোকানে ক্যাসিনো ব্যবসা, আটক ৫ সরকারি জমিতে বস্তি, নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিসিবির আশ্বাসে ক্রিকেটারদের আন্দোলন স্থগিত ক্যাসিনোকাণ্ড: দুই এমপিসহ ২২ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা রেমিট্যান্স আয়ে এগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা বিমান উড্ডয়নে যত্নবান হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা ৪ কি. মি. জ্যামের নেপথ্যে.. এলাকাবাসীর হাতে ইয়াবা সম্রাট আটক পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বিশেষ অভিযান সংস্কারের অভাবে সড়কের বেহাল দশা কোটি টাকা নিয়ে উধাও এনজিও! ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে ২০ হাজার মানুষ পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা? ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ

বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

কুমিল্লার ধ্বনি
৯১০

মনোহরগঞ্জে তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের তরুণী রোকসানা আক্তারকে (১৯) গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ঘটনার মূলহোতা ইউনুস মিয়াকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তাররের পর ধর্ষক ইউনুস পিবিআইকে জানিয়েছে- ওই মামলার অপর দুই আসামি রোকসানাকে অপমান করেছিল। সে অপমান সইতে না পেরেই বিষপানে আত্মহত্যা করেছে রোকসানা। 
কুমিল্লার ৬ নম্বর আমলী আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শারমিন রীমার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ধর্ষক ইউনুস। সে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের সাইকচাইল গ্রামের মাহবুবুল হকের ছেলে। রোকসানা একই গ্রামের ভ্যানচালক ইমান আলীর মেয়ে।
অভিযুক্তরা আত্মহত্যা বললেও, রোকসানার মা রঙ্গিলা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ১২ ডিসেম্বর রাতে রোকসানা আক্তারকে নিজ বাড়ির পাশের একটি পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওইদিন রাতে রক্তমাখা জামাকাপড়সহ রোকসানার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় পর ১৪ ডিসেম্বর রোকসানার বাবা ভ্যানচালক ইমান আলী তাঁর এক আত্মীয়কে নিয়ে থানায় মামলা করতে গেলে রহস্যজনক কারণে পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো তাদের গালমন্দ করে মনগড়া একটি অপমৃত্যুর মামলা নেয় তারা (পুলিশ)। সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি কুমিল্লার আদালতে রোকসানাকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে, ৩ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন তার মা রঙ্গিলা বেগম। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এফ আই আর পূর্বক মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই কুমিল্লাতে প্রেরণ করে। আদালতের নির্দেশে ৭ জানুয়ারি মনোহরগঞ্জ থানায় মামলাটি এফআইআর করে তদন্তের জন্য পিবিআইতে প্রেরণ করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন; সাইকচাইল গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে দাইয়া মিয়া (৪৮), মাহবুবুল হকের ছেলে ইউনুস মিয়া (২৩) এবং আইডা মিয়ার ছেলের ইউনুস (৩৫)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লার পুলিশ পরিদর্শক মো.মতিউর রহমান বলেন, ১১ জানুয়ারি মামলার প্রথম আসামি দাইয়া মিয়াকে গ্রেপ্তার করি। ৩ ফেব্রুয়ারি, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ এলাকা থেকে প্রযুক্তির সাহায্যে মামলার দুই নম্বর আসামি ইউনুস মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। পরে গত সোমবার বিকেলে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ইউনুস।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইউনুস দাবি করেছে- রোকসানার পিতা চট্টগ্রামে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। রোকসানাও চট্টগ্রাম থাকতেন। গত ৩ বছর আগে প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে রোকসানাদের বাসায় (চট্টগ্রাম) বেড়াতে যায় ইউনুস। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ৬ মাস আগে রোকসানা গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। ঘটনার দু’দিন আগে অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি রোকসানার মা তার আরেক সন্তানসম্ভাবা বোনকে দেখতে চট্টগ্রামে যায়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে ঘটনার দিন (১২ ডিসেম্বর রাতে) মামলার প্রথম আসামি দাইয়া মিয়া রোকসানাদের ঘরে টিভি দেখতে যায়। এ সময় আইডা মিয়ার ছেলে ইউনুস মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রোকসানাকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যাক্ত রান্না ঘরে ডেকে নিয়ে যায় এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে রোকসানাকে ধর্ষণ করে। এ সময় হঠাৎ রোকসানার ঘরে থাকা দাইয়া মিয়া এবং মামলার অপর আসামি মাহবুবুল হকের ছেলে ইউনুস মিয়া সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়। তখন ধর্ষক ইউনুস পালিয়ে যায়। এরপর ওইদিন রাতে রোকসানা ধর্ষক ইউনুসকে ফোনে বলে- ‘তুমি প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে আমার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করেছো। এটা দাইয়া আর ইউনুস দেখে ফেলেছে। এনিয়ে তারা আমাকে অনেক অপমান করেছে। আর এখন তুমিও (ধর্ষক ইউনুস) পালিয়ে গেছো। তাই আমি বিষ খেয়ে নিজেকে শেষ করে দিলাম’।
কুমিল্লা জেলা পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.ওসমান গনি বলেন, মামলার আসামি ইউনুস আদালতে যেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তা আমরা তদন্ত করে দেখছি। তাদের কথা সত্যি হতে পারে। আবার এমনটাও হতে পারে ওই তরুণীকে গণধর্ষণের পর তারাই বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। 
মামলার বাদী রঙ্গিলা বেগম বলেন, পুলিশের কাছে গেলেও মামলা না নিয়ে উল্টো আমাদের হয়রানি করেছে, গালমন্দ করেছে। পুলিশের এমন আচরণ দেখে মনে করেছিলাম মনে হয় মেয়ের ইজ্জত লুন্ঠন ও হত্যাকারীদের বিচার হবে না। কিন্তু পিবিআইয়ের তদন্তে আমরা এখন আশার আলো দেখছি। এখন মনে হচ্ছে খুনিদের উপযুক্ত বিচার হবে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লার ধ্বনি
এই বিভাগের আরো খবর