ব্রেকিং:
পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি বাংলাদেশে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে রয়েছে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘুষদাতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী হুজুর সেজে ধর্ষককে ধরলেন পুলিশ কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা জরুরি বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩ ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের রমণীদের পছন্দ বাংলাদেশি ছেলে রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে ঢাকায় মিয়ানমারের তদন্ত দল টাইগারদের হেড কোচ হলেন রাসেল ডমিঙ্গো ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’ ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানসাড়ে ৫০০ ইয়াবাসহমাদক ব্যবসায়ী আটক স্মার্টকার্ড পাবে ছয় বছরের শিশুও! ডেঙ্গু আক্রান্তদের ৮৪ শতাংশ সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ল্যান্ড ফোনের মাসিক লাইন রেন্ট বাতিল প্রসব বেদনা নিয়েই ছয় কিলোমিটার হাঁটলেন কাশ্মীরি মা যুদ্ধ শুরু! ভারতের ৫ পাকিস্তানের ৩ সেনা নিহত ঈদের আগে ৯ দিনে সর্বোচ্চ রেমিটেন্সের রেকর্ড সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিচ্ছে মিয়ানমার

সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

কুমিল্লার ধ্বনি
১১৮

শীত আসলেই মনে পড়ে যায় আমাদের শৈশবের হাজারও স্মৃতি

প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০১৮  

শীত ছিল আমাদের নিকটাত্মীয়ের মতো। অনুভূতির খুব কাছাকাছি এসে জড়ো হয়ে থাকত। তবে এই নিকটাত্মীয়কে বরং আশ্রয় না দিয়ে বিদায়ী সম্ভাষণ জানানোতেই বেশি ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠতাম! খুব সকালে ঘুম-কুয়াশার সকালে গাদা থেকে আঁটি আঁটি খড় জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে শীত পোহানোর যে কী মজা, শৈশবে কানায় কানায় তা উপভোগ্য করে তুলেছিলাম। আগুনের উত্তপ্ত ধোঁয়ার তাড়া খেয়ে কুয়াশার বরফ জমাট ধোঁয়ার চোরের মতো পিঠ বাঁচিয়ে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যের চেয়ে আনন্দের দৃশ্য আর কয়টাই বা ছিল তখন? আগুনের চারপাশে একদিকে ঠকঠক করে কাঁপছি, অন্যদিকে আরও জমাট শীতের কামনা মনে মনে। কারণ, জমাট শীত ছাড়া আগুন পোহাতে মজা কম! শীত যত বেশি, আগুনের উত্তাপের ঘনিষ্ঠতা ততই নিকটতম, লেপ-কম্বলগুলো অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো। অথচ শীত ছাড়া ওরাও অর্থহীন।
এখনো আমাদের এই শহরে শীত পড়ে। বরফরঙা কুয়াশায় ঘাড় নুইয়ে পরাজিতের মতো দাঁড়িয়ে থাকে গাছগুলো, ঘাসগুলো। খুব ভোরে কোনো মাকড়সা জেগে উঠে হয়তো দেখে, তার পাতা জাল ভিজে সারা! ঘাসগুলোও সারারাত ভিজে ভিজে যেন কবিতাময় হয়ে থাকে। ঘাস ছুঁলেই শিহরিত অনুভূতিতে বের হয়ে আসবে একেকটা চমকানো কবিতা! তবে এসব কবিতা এখন আর শোনা হয় না। কর্মব্যস্ততার সিঁড়িতে পা রাখার পর থেকে আবেগের জায়গা কই। শীত আর অনুভূতির আবেগ—সে তো কোনো এক কাল্পনিক অগ্নিতাপে ধোঁয়া হয়ে ফেরারি হয়েছে কবেই!

শীত মানে বাগানের ফুলকপি-বাঁধাকপির পাতায় শিশির। ধনেপাতার মিহি চিকন শাখা-প্রশাখার মাথায় সাদা ফুল। গ্রামের বাড়িতে উঠোনে শুকনো সরষে গাছের পালায় আগুন জ্বালিয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত আগুন পোহানো, আর তাতে মটরশুঁটি পুড়িয়ে খাওয়া। গ্রামের বাড়িতে পৌষ মাসে সারা রাত ঢেঁকিতে ঢ্যাম কুর কুর বাজনা বাজত, চাল কুটে সাদা আটা ভানা হচ্ছে, ভোরবেলা ফাঁপা পিঠা আর পুলি পিঠায় ভরে যাচ্ছে কাঁসার বাটি। খেজুরের রসের পিঠা, পায়েস—শীতে জমে সর পড়ে আছে ওপরে! আহ্!
আজকের ঢাকায় শীত কই? তবু এক কাপ চা হাতে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই, কমলা রঙের রোদটা যদি পাই, জীবনানন্দ দাশ যে কমলা রঙের রোদ দেখেছিলেন। কিংবা কারও শিয়রে তিনি তো কমলার শুশ্রূষা হতে চেয়েছিলেন, তাও তো নিশ্চয়ই শীতেই।
‘আবার যেন ফিরে আসি
কোনো এক শীতের রাতে
একটা হিম কমলালেবুর
করুণ মাংস নিয়ে
কোনো এক পরিচিত
মুমূর্ষুর বিছানার কিনারে।’
শীতে কিন্তু রোগশোক আসবেই। চামড়ায় চড়চড় টান, ছোটবেলায় গায়ে আঁচড় দিয়ে শুকনো মাটির মতো দাগ বের করে বলতাম, মানুষের শরীর মাটির তৈরি। এ থেকে রক্ষা পেতে পেট্রোলিয়াম জেলি ছোটবেলা থেকেই ছিল এক ধন্বন্তরি। ঠোঁটেও পেট্রোলিয়াম জেলি মাখতাম, আমরা বলতাম ‘শিশুমালতী’।
সরষের তেল মেখে রোদে গা গরম করে টিউবওয়েলের নিচে বসে গোসল করতাম, উত্তুরে হাওয়া এসে গায়ে লাগত, দাঁতে দাঁতে লেগে আওয়াজ হতো ঠকঠক, কাঁপতাম। শীতের হাওয়ায় লাগল নাচন আমলকীর এই ডালে ডালে…শিবরাম চক্রবর্তী প্যারোডি করেছিলেন, শীতের হাওয়ায় লাগল কাঁপন নন্দলালের হাড়ে হাড়ে…আমাদেরও হাড়ে কাঁপন লাগত।
তখন তো মাথায় মাখতাম নারকেল তেল। তেল জমে থাকত বোতলে। পাটখড়ি (রংপুরে বলে সিন্টা) দিয়ে তেল বের করতে হতো, তা না হলে উঠোনের রোদে তেল গলাতে দিতাম।
এখন তো কত কিছু পাওয়া যায় শিশুদের আর নিজেদের সুস্থ আর সুন্দর রাখার জন্য। বেবি অয়েল, অলিভ অয়েল, ময়েশ্চারাইজার।
শীত আসে না আসে না করতে করতে একটা সময় শীত কিন্তু ঠিকই পড়বে।
হাড়কাঁপানো শীতই পড়বে। এবার নাকি শীতের মাত্রা তীব্রই হবে। রুম হিটারের দোকানেও ভিড় জমবে। শীতে বিয়ের ধুম তো এরই মধ্যে পড়ে গেছে। পিকনিকেও ছুটবে পিকনিক পার্টি। জারিসারি, পালাগানের আসর বসবে গ্রামেগঞ্জে। কক্সবাজারের মতো বিখ্যাত পর্যটন গন্তব্যগুলোয় ছুটবে অগুনতি ভ্রমণপিয়াসী। হোটেলগুলোয় রব উঠবে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই।
বাংলাদেশে শীতের প্রধান অসুবিধা হলো ধূলিবালি। গাছের পাতা পর্যন্ত ধূসরিত হয়ে থাকে। সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে নানান অসুখ-বিসুখ তো হাত বাড়াবেই।
তাহলে জীবনানন্দ দাশের কমলা হয়ে না হয় কারও শিয়রে মায়া হয়ে উষ্ণতা হয়ে থাকা যাবে। কিন্তু আরও ভালো হবে, যদি আপনি সুস্থই থাকেন। বরং বলি, এই শীতে ভালো থাকুন। যত্ন আর মমতার আশ্রয়ে থাকুন। ভালোবাসার ওমে থাকুন।
নাকি গাইব ভূপেন হাজারিকার গান: ‘রক্তিম যেন এক উত্তাপ হই।’
সুকান্তের ভাষায়:
‘হে সূর্য!
তুমি আমাদের স্যাঁতসেঁতে ভিজে ঘরে
উত্তাপ আর আলো দিও
আর উত্তাপ দিও
রাস্তার ধারের ঐ উলঙ্গ ছেলেটাকে।’
তাহলে কথা গুছিয়ে আনি: আসুন, নিজে ভালো থাকি, স্বজনদের ভালো রাখি, আর ভালো রাখার জন্য একটুখানি উষ্ণতা নিয়ে হাত বাড়াই সমাজের পিছিয়ে পড়া শীতার্ত মানুষদের জন্য। শীত মানে তাই কাছে আসা। শীত মানে তাই একটুখানি উষ্ণতা বিনিময়। শীত মানে ভালোবাসায় ওম! ভালো থেকো, ভালোবাসা; এই শীতে, ভালো থেকো একজোড়া চায়ের কাপ থেকে ওঠা ভাপে।

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লার ধ্বনি