ব্রেকিং:
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় জরিমানা গুনলো দুই ফার্মেসি ঝরে পড়া শিশুদের পাঠদানে ফেরাতে প্রশিক্ষণ দম্পতিকে শৌচাগারে আটকে রাখায় আত্মহত্যা চেষ্টা সরকারি ভবনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবহারের নির্দেশনা জারি প্রত্যাবাসন নিরাপদ না হলে আবারো ফেরত আসবে রোহিঙ্গা ৪০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করায় কুমিল্লায় ট্রেন আটকে প্রতিবাদ ইউক্রেন সফরে আসছেন এরদোগান ও গুতেরেস প্রেমের টানে বগুড়ায় এসে ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ২ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার উপায় খোঁজার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ওয়াসার কর্মীদের উৎসাহ বোনাসে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা দেশে অপুষ্টিতে ভুগছেন ১ কোটি ৭০ লাখ বিবাহিত নারী জনপ্রিয় হচ্ছে ট্রেতে চারা রোপণ আখাউড়ায় ৫ পলাতক আসামি গ্রেফতার ফেনীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী ধরা ডিমের দাম ১ টাকা বেশি নেয়ায় হাজার টাকা জরিমানা ২ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ প্রকল্পের অনুমোদন পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ করে সহায়তা দেবে শ্রম মন্ত্রণালয়
  • বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৩ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

সন্তানের কান্না সইতে না পেরে ডোবায় ছুঁড়ে ফেলে দিলেন মা!

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২২  

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১৫ মাস বয়সী শিশু সন্তানের কান্না সইতে না পেরে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে মা রোকসানা আক্তারের বিরুদ্ধে।  

এ ঘটনায় পুলিশ মাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কাশিনগর ইউপির অশ্বদিয়া গ্রামে। 

জানা গেছে, কাশিনগর ইউপির বারৈয়া গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী আমান উল্যাহর মেয়ে রোকসানা আক্তারের সঙ্গে গত কয়েক বছর আগে বরিশাল থেকে আসা দিনমজুর ইবরাহিমের বিয়ে হয়। গত ১৫ মাস আগে তাদের ঘরে আরাফাত হোসেন নামে এক শিশুর জন্ম হয়। তারপর থেকে দিনমজুর ইবরাহিম তার শ্বশুর এলাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি বরিশাল চলে যায়। গত রমজান মাসে দিনমজুর স্বামী ইবরাহিম স্ত্রী রোকসানাকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বরিশাল যেতে বলেন। কিছুদিন পর তিনি টাকা নিয়ে বরিশাল যান। টাকাগুলো শেষ হয়ে গেলে রোকসানাকে আবার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় স্বামী ইবরাহিম।

কয়েকমাস আগে রোকসানা স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজ ও সন্তানের জন্য টাকা চাইলে তিনি বলেন, ‘শিশু সন্তানসহ তুই মরে যেতে পারিস না? আমি কোথা থেকে টাকা দেব? আমি টাকা দিতে পারবো না’। 

এ অবস্থায় রোকসানা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। স্বামীর কথায় রাগ ও ক্ষোভে রোকসানা শিশু সন্তানকে দুইবার পানিতে ফেলে দিলে গ্রামবাসী দেখতে পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। রোকসানা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার দিনমজুর বাবা তাকে চিকিৎসা করান। কিন্তু রোকসানা পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠেনি।  

প্রতিবেশী ফেরদৌসি বেগম জানান, রোকসানার স্বামী দীর্ঘদিন স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজখবর না নেয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গ্রামের বিভিন্নভাবে বাড়িতে কাজ করে নিজের ও সন্তানের আহার জোগান। দিন যতই যাচ্ছিল, ততই রোকসানা আরো মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে থাকেন। এরমধ্যে স্বামীর পক্ষ থেকে কোনো রকম সহযোগিতা না পেয়ে বরং উল্টো সন্তানকে হত্যা করে ফেলার জন্য তিনি প্ররোচণা দিতে থাকেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে রোকসানার শিশু সন্তান আরাফ হোসেন খাবারের জন্য কান্নাকাটি করতে থাকে তিনি দিকবেদিক ছুটাছুটি করে খাবার জোগার করতে না পেরে পার্শ্ববর্তী অশ্বদিয়া গ্রামের একটি ডোবাতে আরাফাতকে ছুড়ে ফেলে দেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ডোবায় শিশুর লাশ ভেসে উঠতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশের সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় শিশুটির মা রোকসানা আক্তারকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। 

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘শিশুটির মা রোকসানা আক্তার মানসিকভাবে অসুস্থ। ডোবা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোকসানা আক্তার নিজের এবং শিশু সন্তানের ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ডোবায় ছুঁড়ে ফেলে তাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন’।