ব্রেকিং:
এলপিএলের নিলামে পাঁচ টাইগার ক্রিকেটার, আছেন সাকিবও দেশে একদিনে ২২ মৃত্যু, শনাক্ত দেড় হাজারের বেশি ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপনে ৩০ কোটি টাকা আত্মসাত করল সাদিয়া নারায়ণগঞ্জে মসজিদে আবারো বিস্ফোরণ, নিহত ১ এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে যা জানালো আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসছে কঠোর আইন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগকে সম্মাননা প্রদ নাইজেরিয়ায় ধর্ষককে খোজাকরণ আইন পাস চাকরির বয়স ১০ বছর হলে উচ্চতর গ্রেডে বাধা নেই অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ীদের জরিমানা আশুগঞ্জ মোকামে ধান সংকট, লোকসানে চাতাল মালিকরা বাসে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ, অভিযুক্ত চালক-হেলপার গ্রেফতার রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের ভূমিকায় হতাশ বাংলাদেশ বাড়লো একাদশে ভর্তির সময় সাত দেশ থেকে আসছে ৭৯ হাজার টন পেঁয়াজ বিশ্বে করোনায় মৃত্যু সাড়ে ৯ লাখ ছাড়াল আখাউড়া স্থলবন্দরে বিএসএফ মহাপরিচালক মাদকের বড় চালানসহ বাবা ছেলে আটক দূর্গাপূজায় থাকছে না বর্ণিল আলোকসজ্জা স্বামী হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সুফিয়া গ্রেপ্তার
  • শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৪ ১৪২৭

  • || ৩০ মুহররম ১৪৪২

৮৯

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায়

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

করোনা মহামারিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়িদের কথা চিন্তা করে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্বেও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় নানাভাবে হয়রানি ও জোর-জবরদস্তি করে কিস্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ক্ষুদ্রঋণ বিতরনকারি বিভিন্ন এনজিও’র বিরুদ্ধে। তাদের মাঠকর্মীরা দলে-বলে ঋণগ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে গ্রাহকদেরকে নানাভাবে হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে কিস্তি আদায়ে বাধ্য করছেন বলে জানা গেছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক কিস্তি আদায় করলে লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেও কিস্তি আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এনজিও কর্মীরা। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে কিস্তির টাকা আদায় নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে এনজিও কর্মীদের উগ্র আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনাও ঘটেছে।

এনজিওকর্মীদের বিরতিহীন নানাবিধ চাপে রিতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রামীন জনপদে বাস করা নিম্নআয়ের সাধারণ দিনমুজুর ও খেঁটেখাওয়া কর্মহীন মানুষ।

এনজিও মাঠকর্মীদের আতঙ্কে অনেকে তাদের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে আর কোন ঋণ না পাওয়ার ভয়ে এদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল মিলছে না।

এনজিওগুলো থেকে সাধারণত যারা ঋণ নিয়ে থাকেন তাদের সিংহভাগই গ্রামের সাধারণ কৃষক, রিকশা-ভ্যান-সিএনজি চালক, চায়ের দোকানদার, সবজি বিক্রেতা, ফেরিওয়ালা, প্রবাসী ও দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের আয় বা মাসিক বেতন থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে তারা তাদের সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তি পরিশোধ করেন।

বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা অভিযোগ করেন, এনজিওর মাঠ কর্মীরা লোকজন নিয়ে বাড়িতে এসে তাদের কিস্তি পরিশোধের জন্য জন্য চাপ দিচ্ছে, করোনার এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে ঘন্টার পর ঘন্টা বাড়িতে বসে থেকে মানসিকভাবে নির্যাতন করছে, অফিস থেকেও বড় বড় কর্তারা ফোন দিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

তাঁরা জানান, গত ৬ মাসধরে আমাদের আয়-রোজগারের সব পথই বন্ধ। নানারকম সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের ওপর বেঁচে আছেন। এ অবস্থায় তাঁদের কোনভাবেই কিস্তি দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁরা উল্টো প্রশ্ন করেন, পরিস্থিতি কি স্বাভাবিক হয়েছে যে কিস্তির জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে? কিস্তির তাগাদার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।

বেশ কয়েকটি এনজিও’র মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মী বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি কিস্তি পরিশোধ করার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। কিন্তু কিস্তি আদায় করতে না পারলে আমাদের বেতন আটকে রাখা হয়। এমনকি চাকরিও চলে যায়। তাই কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হই।’

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ‘ব্যুরো বাংলাদেশ’ নামক একটি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহনকারি নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, অসুস্থ্য থাকার কারনে আমি গত রোববার সাপ্তাহিক কিস্তি দিতে পারি নাই। কিন্তু তাদের একজন পুরুষ মাঠকর্মী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত আমার ঘরে বসে ছিলেন। এ সময়ে ওই মাঠকর্মী আমাকে নানান কটুকথা বলে মানসিকভাবে হয়রানি করে কিস্তি দেয়ার জন্য। পরে আমি বাধ্য হয়ে তাতক্ষনিক আমার কয়েকটি হাঁস-মুরগি বিক্রি করে কিস্তি পরিশোধ করি।

জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে এসএসএস, ব্র্যাক, টিএমএসএস, আশাসহ ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারি আরো কয়েকটি এনজিও’র বিরুদ্ধে।

বুড়ীচংয়ের একজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, দৈনিক রোজগার বন্ধ, পরিবারের দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা মেটাতেই যেখানে হিমশিম খাচ্ছি, সেখানে কিস্তির চাপ আর নিতে পারছি না। এনজিও কর্মীদের সরকারি নির্দেশনা কথা স্বরণ করিয়ে দিলে তারা ধমকের স্বরে বলেন, ‘আপনাদেরকে কি সরকার লোন দিয়েছে? সরকারের কথা বলছেন কেন? আমরা সরকারকে চিনিনা, লোন দিয়েছি আমরা, আমাদের কথাই আপনাদেরকে শুনতে হবে।’

মুরাদনগর উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আহসান কবির বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে দোকান খুললেও করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারে লোকজনের উপস্থিতি একেবারেই কম। কেনাবেচা একেবারেই নেই। সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি। এরপর আবার এনজিও’র লোকজন এসে কিস্তির টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন।’।

লাকসামের আয়েশা আক্তার বলেন, ‘রাত পোহালেই কিস্তির জন্য এনজিও কর্মীরা বাড়িতে চলে আসছেন। যতক্ষণ টাকা পরিশোধ না করা হয় ততোক্ষণ এনজিও কর্মীরা বাড়ী থেকে যেতে চান না এবং পরবর্তীতে ঋণ দেয়া হবে না বলে হুমকি দিচ্ছেন।’

প্রসঙ্গত, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’র (এমআরএ) এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সারাদেশে করোনা সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন গ্রাহককে কিস্তি পরিশোধে চাপ প্রয়োগ করা যাবেনা, তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিস্তি পরিশোধ করতে চান তাহলে তা গ্রহণ করা যাবে। কোন গ্রাহক যদি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে তাদের ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ঋণকে নিয়মিত রেখে প্রয়োজনে নতুন ঋণ দিতে হবে।

এ বিষয়ে করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরের পর্যবেক্ষণ বিষয়ক মনিটরিং সেলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ঋণ দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ। প্রজ্ঞাপণের নির্দেশনা অনুযায়ি কোন গ্রাহক স্বেচ্ছায় কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন, কিন্তু করোনায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ কোন গ্রাহককে চাপ প্রয়োগ বা তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না।

কারো বিরুদ্ধে কিস্তি আদায়ে চাপ প্রয়োগ বা খারাপ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

যোগাযোগ করা হলে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিস্তি আদায়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া আছে, কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে ঐ এনজিও’র ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনজিও কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোক জমায়েত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধির কোনরূপ তোয়াক্কা না করে যেভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা মহিলাদের জমায়েত করছেন, তাতে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনা সংক্রমনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও অনেকাংশে বেড়ে যাচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

কুমিল্লার ধ্বনি
নগর জুড়ে বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর