ব্রেকিং:
৯৯৯ এ ফোন করে উদ্ধার হলেন ২০০ লঞ্চ যাত্রী পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি বাংলাদেশে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে রয়েছে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘুষদাতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী হুজুর সেজে ধর্ষককে ধরলেন পুলিশ কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি তথ্যমন্ত্রীর ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা জরুরি বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩ ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের রমণীদের পছন্দ বাংলাদেশি ছেলে রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে ঢাকায় মিয়ানমারের তদন্ত দল টাইগারদের হেড কোচ হলেন রাসেল ডমিঙ্গো ‘চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে’ ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানসাড়ে ৫০০ ইয়াবাসহমাদক ব্যবসায়ী আটক স্মার্টকার্ড পাবে ছয় বছরের শিশুও! ডেঙ্গু আক্রান্তদের ৮৪ শতাংশ সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ল্যান্ড ফোনের মাসিক লাইন রেন্ট বাতিল প্রসব বেদনা নিয়েই ছয় কিলোমিটার হাঁটলেন কাশ্মীরি মা যুদ্ধ শুরু! ভারতের ৫ পাকিস্তানের ৩ সেনা নিহত ঈদের আগে ৯ দিনে সর্বোচ্চ রেমিটেন্সের রেকর্ড

সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

কুমিল্লার ধ্বনি
৪৯৬৭

হাতেম তাই জনাব মিজানুর রহমান মিজান

প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮  

বুড়িচং রাজনীতিতে এক সমাদৃত নাম বর্তমান বুড়িচং উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। এলাকায় তিনি হাতেম তাই নামেই বেশী পরিচিত। জনাব মিজানুর রহমান একজন স্বনামধন্য হোটেল ও পরিবহন ব্যবসায়ী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিয়ামী, জমজমের মতো বিখ্যাত প্রায় ৩০টির মতো হোটেল আছে যা মহাসড়কের যাত্রীদের আনাগোনায় সবসময় মুখরিত থাকে। তার ব্যবসার উত্থান একদিনের নয়, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।

তার শৈশব ও কৈশোর খুব একটা সুখকর ছিলো না।ভারেল্লা শাহনুরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি অষ্টম শ্রেনীতে পড়াকালীন সময়ে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে স্কুলের এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করা ও সহপাঠিদের ধুমপান করতে জোর করার অভিযোগ ছিলো। এমন ছাত্রকে স্কুল কতৃপক্ষ তাদের স্কুলে রাখতে চায় নি। কিন্তু তাই বলে জনাব মিজান দমে যান নি, তিনি পরে মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়েছেন বলে শোনা যায়, তবে পাশ করেছেন কিনা তা কেউ বলতে পারে না।

তার নামে এলাকায় খুব সুন্দর একটি গল্প প্রচলিত আছে, তিনি টাকার কলসি পেয়ে এমন ফুলেফেপে উঠেছেন। এই টাকার কলসিই তার ব্যাবসার মূলধন যোগানে সাহায্য করেছে। তার টাকার কলসির খোঁজে পরে আসছি, আগে তার মহানুভবতার কথা শেষ করা যাক।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কন্যা দায়গ্রস্থ পিতার কন্যাকে বিয়ে করে তিনি তার মহানুভবতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু সেই হিন্দু মহিলার পিতা যদি হয় কুমিল্লার জনপ্রিয় সিনেমা হল গ্যারিসনের মালিক! যেটা মেয়েকে বিয়ে করার কারনে চলে যায় জনাব মিজানের দখলে! মিজান সাহেব গ্যারিসন সিনেমা হলের দখল নিয়ে সিনেমা হলের কাজকর্মে আমূল পরিবর্তন আনেন। নাইট শো গুলোতে সিনেমার পরিবর্তে দেখানো হত “নীল ছবি”। সিনেমা হলের ভিতরেই তিনি পতিতাদের দিয়ে ব্যবসা করতেন।“টাকার কলসি”র ব্যাপারটি আশা করি বুঝতে শুরু করেছেন। কলসীর নিচের অংশের টাকার হিসেব পাওয়া গেলো। এবার উপরের অংশের খোঁজে নামা যাক।

“গ্যারিসন” এর টাকায় তিনি এতটাই ফুলেফেপে উঠেছিলেন যে তিনি হোটেল ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিলেন এবং একই সাথে বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন। তৎকালীন সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার কারনে তিনি সেই নির্বাচনে জয় লাভ করেন। তৎকালীন সরকার দলীয় হওয়ার জন্য তিনি তার ব্যবসার উন্নয়ন কাজে মনোযোগ দেন। মহাসড়কের নামীদামী হোটেল গুলোতে মদ, জুয়া ও নারীর আসর বসাতেন তিনি। এর ফলে তার রমরমা হোটেল ব্যাবসা বাড়তে থাকলো।আশাকরি এবার তার টাকার কলসি পূর্ন হওয়ার ঘটনাটা পরিষ্কার হলো। কিন্তু টাকার কলসি উপচে পড়ছে কিভাবে?

তার এই সকল ব্যবসার আড়ালে তিনি পতিতালয়ে নারী বিক্রি করেন। হাতেম তাই মিজানের ব্যবসা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশ পর্যন্ত পৌছে গেছে। ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার গ্যাংটক পর্যন্ত তার জুয়ার আড্ডা চলে।

বর্তমানে তার সখ্যতা গড়ে উঠেছে বিএনপির সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদের সাথে।তাকে বিশেষ সার্ভিস দেওয়া হয় হোটেল জমজমের একটি বিশেষ কক্ষে। কি আছে সে বিশেষ কক্ষে? শওকত মাহমুদের মনোরঞ্জনের জন্য সেই রুমে মদ, ইয়াবা ও সুন্দরী “ডানাকাটা পরীদের” পর্যাপ্ত মজুদ রাখা হতো। মাস কয়েক আগে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব) হোটেল মিয়ামীতে অভিযান চালিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা, বিদেশী বিয়ার ও মদের প্রায় কোটি টাকার মাদক জব্দ করে।

সেই বিএনপি নেতা শকত মাহমুদ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু পান নি। তাই তিনি এখন আওয়ামীলীগের পক্ষে কাজ করছেন। আওয়ামীলীগ কর্মীদের বিনামূল্যে খাওয়াচ্ছেন তিনি।তার সাথে সাথে আমাদের হাতেম তাই মিজান সাহেবও আওয়ামীলীগ নেতাদের চাটুকারিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার একটাই লক্ষ তাদের এই ব্যবসা যেনো কখোনো বন্ধ না হয়। সে এলাকার হাতেম তাই হয়েই থাকতে চান।

কিন্তু পাঠকের মনে একটিই প্রশ্ন, হাতেম তাই মিজান ও শওকত মাহমুদের রাজনৈতিক আদর্শ কি? জিয়া নাকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান? নাকি তারা শুধুই অবৈধ ব্যবসা ও টাকার জন্য আদর্শ বিসর্জনে বিশ্বাসী?      

কুমিল্লার ধ্বনি
কুমিল্লার ধ্বনি
এই বিভাগের আরো খবর