ব্রেকিং:
কুমিল্লা সমাবেশে রুমিনের মোবাইল ছিনতাই করল যুবদল কর্মী হাইমচরে নৌকার পক্ষে প্রচারণায় মাঠে ডা:টিপু ও মেয়র জুয়েল চাঁদপুর শহরের গ্রীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আজ বিশেষ মুনাজাতের মধ্যে শেষ হচ্ছে চাঁদপুর জেলা ইজতেমা মতলব উত্তর ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রামপুরে বিষ প্রয়োগে অসহার কৃষকের মাছ নিধন ‘গুসি শান্তি পুরস্কার’ পেলেন শিক্ষামন্ত্রী মতলবের ধনাগোদা নদীতে কচুরিপানা জটে নৌ চলাচল বন্ধ মতলবের ধনাগোদা নদীতে কচুরিপানা জটে নৌ চলাচল বন্ধ ৩৫ বছরে শৈশবের স্বাদ, হতে চান উচ্চশিক্ষিত লক্ষ্মীপুরে ছাত্রদলের ১৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ২ তরুণের মুরাদনগরের সিদল যাচ্ছে বিদেশে ট্রেনে কাটা পড়ে নারীসহ ২ জনের মৃত্যু যোগাযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের সহযোগিতা চায় আমিরাত বঙ্গবন্ধু টানেলে গাড়ি চলবে জানুয়ারিতে বিদেশিদের মন্তব্যে বিরক্ত সরকার আমনের বাম্পার ফলন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু
  • রোববার   ২৭ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৯

  • || ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

৪ লাখ টাকায় বাংলাদেশের দুই ম্যাচ দেখলেন কুমিল্লার খুরশিদ

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২২  

আপনি তাকে পাগল বলুন কিংবা আবেগী, তাতে তার কিছু যায় আসে না! তিনি এমনই। নিজের আবেগটাকেই এগিয়ে রাখেন সব সময়। তাইতো লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে চলে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে। উদ্দেশ্য একটাই-বাংলাদেশের ম্যাচ দুটো ম্যাচ দেখা। এই জন্য মোটা অঙ্কের অর্থও খরচ করেছেন তিনি!

কিন্তু দুঃখ একটাই-অ্যাডিলেডে দুটো ম্যাচেই হেরে গেছে বাংলাদেশ। তাই বলে আক্ষেপ নেই খুরশিদ আলমের। তার জন্ম বাংলাদেশের কুমিল্লায়। অবশ্য এখন স্থায়ী হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে দুটি সুপার শপের মালিক তিনি। ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকার মানুষ অবশ্য নন তিনি। তার হৃদয় আর মস্তিস্কের বড় অংশ জুড়ে ক্রিকেট।

সেই ভালবাসার টানেই ছুটে এসেছেন জোহানেসবার্গ থেকে। উঠেছেন অ্যাডিলেড স্টেডিয়ামের হাঁটা পথে ১০ মিনিট দূরত্বের একটা ব্যাকপ্যাকার্স হোটেলে। সেখানেই রিসিপশনে পরিচয় বাংলাদেশের এই ক্রিকেট ভক্তের সঙ্গে। বলছিলেন, ‘শুধু ক্রিকেটের টানে ব্যবসা বাণিজ্য ফেলে এখানে এসেছি। ১ নভেম্বর এসেছি থাকবো ৮ তারিখ পর্যন্ত। বলতে পারেন মন চেয়েছে তাই অর্থ কড়ি দিকে না তাকিয়ে চলে এসেছি।’

সেই খুরশিদ আলম জানালেন, সব মিলিয়ে মনের ইচ্ছে পূরণের জন্য তার খরচ হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ টাকা। মানে বাংলাদেশের হারা দুটি ম্যাচ দেখতে এই অর্থ গেল তার। ঢাকা পোস্টের সঙ্গে এই ক্রিকেটপ্রেমী বলছিলেন, ‘দেখুন, টিকিট কাটতে প্রায় ২ হাজার ডলার খরচ হয়েছে আমার। এরসঙ্গে হোটেলে থাকা-খাওয়া দাওয়া তো আছে। সব মিলিয়ে বলতে পারেন ৪ লাখ টাকা গেল এক সপ্তাহে।’

হাসিমুখে খুরশিদ আরও যোগ করলেন, ‘আমি পছন্দ করি বাংলাদেশের খেলা দেখতে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি অনেক আগে থেকেই টান ছিল আমার, অনেক পছন্দ।’ তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা দেখে অনেক কষ্ট পেয়েছেন। আম্পায়ারের এক চোখা সিদ্ধান্ত যন্ত্রণা দিচ্ছে তাকে, ‘বিরাট কোহলির ফেইক ফিল্ডিং না হয় বাদ দিলাম-কিন্তু ভেজা মাঠে ওরা খেলালো কেন? না হলে তো বৃষ্টি আইনে লক্ষ্যটা কম হতো। সব ওদের খেলা। দুঃখ হয়!’

দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও বাংলাদেশের খেলা দেখতে তিনি গেছেন জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে। বললেন, ‘এখন ব্যবসা গুছিয়ে এনেছি। বাংলাদেশের খেলা দেখতে অনেক দেশেই যাবে। আর আমার প্রিয় ক্রিকেটার তো সাকিবই, ভালো খেলে অনেক। আগে থেকেই পছন্দ তাকে।’

বাংলাদেশের খেলা দেখতে অনলাইন থেকে আগেই টিকিট কেটে নিয়েছিলেন। দল সেমিফাইনালে উঠলে সিডনিও যেতেন খুরশিদ। কুমিল্লার ৫০ ছোঁয়া এই মানুষটি বলছিলেন, ‘প্রস্তুত ছিলাম, সেমিফাইনাল দেখবো। কিন্তু বাংলাদেশ তো সুযোগ পেয়েও পারল না। পাকিস্তানের কাছে হেরে গেল। ম্যাচটাতে আমার প্রিয় ক্রিকেটার সাকিবকে কী একটা আউট দিল, দেখলেন? আমাদের বিরুদ্ধেই সব সিদ্ধান্ত যায়! তবে আমি হতাশ হইনা। ওরা নিশ্চিত একদিন আরও ভাল খেলবে। দলটা তো নতুন।’

খেলা দেখার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয় খুরশিদকে। কারণ তিনি ধর্মপ্রাণ। এটা সেটা সব খাবার খেতে পারেন না। তাইতো কোথায় গেলে গুগলে সার্চ দিয়ে খুঁজে নেন হালাল খাবার, ‘এভাবেই চলি। কষ্ট হয়। দেখুন, আমি তো আর ভিআইপি না যে ফাইভ স্টারে থাকবো। দেখি কোথায় একটু কম খরচে থাকা যায়!’

ক্রিকেট পাগল এই মানুষটির একটা পরিবারও আছে। স্ত্রী-সন্তান থাকে ঢাকার বনশ্রী এলাকায়। সেখানেই ৬ তলা একটা বাড়ি করেছেন তিনি। ২২ বছর ধরে জোহানসবার্গে ব্যবসা করে যা উপার্জন করেছেন তাই দিয়ে করেছেন সেই বাড়ি।

তবে তার এমন ক্রিকেটপ্রেমে বিরক্ত হননা পরিবারের কেউ। সবাই এটা মেনে নিয়েছে। হাসিমুখে খুরশিদ বলছিলেন, ‘না পরিবার থেকে কিছু বলে না আলহামদুলিল্লাহ, আমার টাকা খরচ করছি এতে পরিবারের ক্ষতি হবে এমন কিছু না। আমার পরিবারে আমার স্ত্রী, দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে, তারা বাংলাদেশে থাকে। ওরা আমার এমন ক্রিকেটপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলে না। আমি আমার মতো চলি।’

সেই চলাতেই আনন্দ খুঁজে পান খুরশিদ। কিন্তু যাদের জন্য এমন পাগলামি সেই ক্রিকেটাররা কি ঠিকঠাক আনন্দ দিতে পারছেন তাকে?