বৃহস্পতিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৬   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪১

রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অভিষেক হবে: উপাচার্য

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত : ১০:২৫ এএম, ২৪ মার্চ ২০১৯ রোববার

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের প্রথম কার্যকরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ বছর ১০ মাস পর ডাকসু প্রাণ ফিরে পাওয়ায় একটি বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি রাখার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাকসু সভাপতি ও  উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান।

শনিবার ডাকসু প্রথম কার্যকরী সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আজ প্রথম কার্যকরী সভা হলো এবং এর মধ্য দিয়েই ডাকসুর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি ডাকসুর ভিপি, জিএস, এজিএসসহ সবাইকে। আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বড় আকারের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে। সেখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অথবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে থাকবেন।

উপাচার্য আরো বলেন, বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করার দায়িত্ব দিয়েছি কার্যকর পরিষদকে। ভিপি, জিএস, এজিএসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারা বিভিন্ন কমিটি করে   উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এটি আমাদের বড় দাগের আজকের সিদ্ধান্ত।’

ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আজ দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। আমাদের সামগ্রিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা একটি অভিষেক অনুষ্ঠান করতে চাই। সেটা সম্ভবত দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগবে। সেখানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সম্মানিত আচার্যকে দাওয়াত করা হবে।’

এদিকে নব-নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম কার্যকরী সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব উঠেছে। তবে ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে এর বিরোধিতা করেছেন সহ সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। এসময় তিনি পুনরায় ডাকসু নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসুর নতুন কমিটির প্রথম কার্যকরী সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসু সভাপতি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্যপদ দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ডাকসুর পরবর্তী সভায় এটি পাশ হতে পারে।’

তবে এর বিরোধিতা করা হয়েছে জানিয়ে ভিপি নুরুল হক নুর সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্যপদ দেয়ার একটা প্রস্তাব সভায় এসেছে। তবে এর সমাধানে আমরা পৌছায়নি। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবং আমি নিজে এ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে মনে করছি। সে জায়গা থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এখানে সদস্যপদ দেয়া উচিৎ না বলে আমরা মনে করছি।’

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সম্মানিত ব্যক্তি। এই বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে যে ডাকসু, সেখানে তার মতো সম্মানিত ব্যক্তিকে সদস্য করা ঠিক হবে না। তার কথার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনও।

এসময় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘ডাকসুর কমিটির ২৩ জন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্য পদ দেয়ার পক্ষে। সুতরাং এটি পাশ হবে।’