ব্রেকিং:
পুকুর থেকে মাদরাসা ছাত্রীর লাশ উদ্ধার বাংলাদেশি জিনাতের সোনা জয় দক্ষিণ আফ্রিকার বক্সিংয়ে নিয়মিত দ্বিগুন মাত্রার শব্দে দূষণের শিকার কুমিল্লা নগরী দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধ-র্ষ-ণে-র অভিযোগ দেশের যত অপরাধ তার সবই করে বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যা বিশেষ কায়দায় ৪০ কেজি গাঁজা পাচার দুদিনব্যাপী পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষক প্রশিক্ষণ ৪ মে থেকে বাড়ছে ট্রেনের ভাড়া সেকান্দর চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের যাবজ্জীবন মোহনপুরে নৌ-পুলিশের অভিযানে ১৩ জেলে আটক ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ পূজা নিয়ে এমপি বাহারের বক্তব্য ব্যক্তিগত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেঘনায় মিলল নিখোঁজ জেলের মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেডক্রিসেন্টের অ্যাডহক কমিটি গঠন ইঁদুরের শত্রু, কৃষকের বন্ধু জাকির হোসেন বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত, আহত ৩০ কুমিল্লায় ১৭ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস নোয়াখালীতে রোহিঙ্গার পেটে মিলল ইয়াবা, গ্রেফতার ৪ দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের গুলিতে প্রাণ গেল ছাগলনাইয়ার দিদারের
  • বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১২ ১৪৩১

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫

বোরোর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

কুমিল্লার ধ্বনি

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২০  

কুমিল্লার লাকসাম অঞ্চলে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। করোনাঝুঁকি, শ্রমিক সংকট ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তারা বিপাকে পড়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রণোদনার সুফল পেতে চান এখানকার কৃষকরা। 

জানা যায়, বৃহত্তর লাকসামের (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট) গ্রামীণ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। চলতি মৌসুমে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। পুরোদমে কৃষকরা বাড়িতে ধান তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিছু জায়গায় ধানকাটা শুরু হয়েছে। তবে এবার দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলায় জেলায় লকডাউনের কারণে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা আসতে না পারায় শ্রমিক সংকটে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

এরই মধ্যে বিরূপ আবহাওয়া কৃষকের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ঝড়, তুফান ও শিলাবৃষ্টি তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর লাকসাম অঞ্চলে (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট) চলতি মৌসুমে ২৯ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে ইরো-বোরো চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন। তার মধ্যে লাকসামে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন, মনোহরগঞ্জে ৯ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে ৪৫ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন এবং নাঙ্গলকোটে ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা থেকেও উৎপাদন বেশি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস প্রত্যাশা করেন।

তিন উপজেলার একাধিক কৃষক বাম্পার ফলনের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ঘরে ফসল তোলার এই সময় আমরা আনন্দে কাটানোর কথা থাকলেও নানা দুশ্চিন্তায় আছি। করোনাঝুঁকি, শ্রমিক সংকট ও বিরূপ আবহাওয়া আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

কৃষি উপকরণ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে ধান উৎপাদন খরচ ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান একাধিক কৃষক। দৈনিক জনপ্রতি কৃষকের মজুরি, খাবারসহ ৭-৮শ টাকা খরচ হচ্ছে যা এক মণ ধানের দামের চেয়েও বেশি। চলমান প্রেক্ষাপটে তারা উৎপাদন খরচে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। সরকারিভাবে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। অন্যথায় তারা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনার সুফল পেতে চান।

লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল হক, মনোহরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন ভৌমিক এবং নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের যে কোনো সমস্যায় আমরা সবসময় পাশে আছি। ধান কাটার জন্য কেউ অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আনতে চাইলে আমাদের জানালে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। লাকসাম ও নাঙ্গলকোটে ভর্তুকি মূল্যে ধান কাটার (কম্বাইন্ড হারভেস্টার) পৃথক দুটি যন্ত্র কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন একটি মেশিনে সর্বোচ্চ ১০ হেক্টর জমির ধান কাটা ও মাড়াই করা সম্ভব হবে। বৃহত্তর লাকসাম অঞ্চলে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।